hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১৭

নিওক্লাসিক্যাল সমন্বয়

উপরে যে কর্মকৌশল আলোচিত হলো তার বিপরীতে বৃহদাকারের অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে নিওক্লাসিক্যাল উদারনৈতিকতাবাদেও সেকুলার দৃষ্টিভঙ্গির কাঠামোর আওতায় যে সমন্বয় কর্মসূচির পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তাতে আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠনের সম্পৃক্ততা নেই। এটি সরলভাবে অনুভূত, যে অর্থনীতির উদারীকরণ শুধু ভারসাম্যহীনতা অপসারণেই সাহায্য করবে না, অধিকতর দক্ষতা ও ন্যায়পরতা অর্জনেও সহায়ক হবে। প্রাথমিক সমন্বয়গুলো হচ্ছে, বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং মূল্য বিকৃতির সংশোধন, বিশেষত বিনিময় হার ও সুদের হারে। সন্দেহ নেই যে, এ ধরনের সমন্বয়সমূহ ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণ এবং এমনকি দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু এগুলো কি আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার সম্প্রসারণে নিজেদের সাহায্য করবে? বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, বাজেট ঘাটতি দূরীকরণ এবং বাজার সংশ্লিষ্ট মূল্য প্রচলন সমন্বয়ের বড় বোঝাটি গরীবদের কাঁধেই চাপিয়ে দেয়, যতক্ষণ না তা সমান্তরালভাবে ন্যায়বিচার সম্প্রসারণের কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে করা হয়। উচ্চতর মূল্য ধনীদের চাহিদায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষতি করে না, তারা যা চায় তা ক্রয় অব্যাহত রাখে। অথচ গরীব আরো সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর ফলে দারিদ্র্য এবং বৈষম্য বৃদ্ধি পায়, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিশীলতার সৃষ্টি হয় এবং সরকার তখন তাদের অনুসৃত ব্যবস্থাগুলো গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়।

নিওক্লাসিক্যাল সমন্বয় কর্মসূচি এভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়। কারণ উদার মূল্যবোধ নিরপেক্ষ ঐতিহ্যের আওতায় প্রাথমিকভাবে সমস্যাটিকে তার স্থিতি ও নামমাত্র দক্ষতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে থাকে এবং সাম্যের প্রতি কেবল দ্বিতীয় পর্যায়ের গুরুত্ব প্রদান করে। যাইহোক, স্থিতিকরণ কর্মসূচি যদি দক্ষতা ও ন্যায়পরতা উভয় লক্ষ্য অর্জনে প্রণীত হতো, তবে তার সফল হবার অধিকতর সুযোগ থাকত। কিন্তু এ ধরনের কর্মসূচি একটি মূল্যবোধনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যে তৈরি করা যায় না, যদি তা তৈরি করা হয় তবে তা একটি কার্যকর উদ্বুদ্ধকরণ ব্যবস্থা ছাড়া বাস্তবায়ন করা যায় না। সেই ব্যবস্থা এমন যা প্রত্যেক ব্যক্তিকে সামাজিক কল্যাণের সীমারেখার মধ্যে তার নিজের স্বার্থে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হবে।