১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯
বিশ্ববীক্ষণ (World View) ও কৌশলের ভুমিকা
আপাত দৃষ্টিতে যদিও তিনটি প্রশ্নই সোজাসাপটা, কিন্ত তা গভীর মূল্যবোধসঞ্জাত, শূন্যের উপর তার উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। এর একটি বিশ্ববীক্ষণ (world view) অথবা ভিত্তিমূল দর্শন এবং কৌশল থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি সমাজব্যবস্থা তার নিজস্ব বিশ্ববীক্ষণ দিয়ে প্রভাবিত এবং বিশ্বজাহানের উৎপত্তি এবং মানব জীবনের প্রকৃতি সম্পর্কে এক প্রকার অন্তর্নিহিত ও প্রকাশমান ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। আর্থার লোভেজয়ের (Arthur Lovejoy) মতে এই বিশ্ববীক্ষণ ‘প্রায় যে কোনো বিষয়ের উপর মানব প্রকৃতির প্রতিফলনকে নিয়ন্ত্রণ করে’। মানব প্রকৃতি সম্পর্কে মতপার্থেক্যের ফলশ্রুতিতে মানব জীবনের তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য, মানুষের আওতাধীন সীমাবদ্ধ সম্পদের চূড়ান্ত মালিকানা ও উদ্দেশ্য, অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে মানুষের পারস্পারিক সম্পর্ক, পরিবেশ এবং দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার মানদণ্ড সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণারও পার্থক্য ঘটে। একটি ভবনের ভিত্তির মতোই এরূপ একটি বিশ্ববীক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়ও একই রকম ভূমিকা রাখে, এমনকি সহায়ক ভিত্তিমূল সর্বদা একইভাবে অদৃশ্য ও অনুল্লেখ্য হওয়া সত্ত্বেও তা নিরবচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্তকারী ভূমিকা পালন করে থাকে। পদ্ধতিগত কৌশল এই বিশ্ববীক্ষণের একটি যৌক্তিক ফলশ্রুতি। বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর করার জন্য কৌশল হিসেবে থাকতে হবে কতগুলো অপরিহার্য উপাদান। এতে থাকতে হবে একটি পরিশোধন পদ্ধতি (filter mechanism), যার ভেতর দিয়ে সকল দাবি অদৃশ্য বা দৃশ্যমান হাত দিয়ে অতিক্রান্ত হবে, যাতে সম্পদ ও তার উপর দাবির মধ্যে একটা ভারসাম্য বিধান এবং কাম্য দক্ষতা ও সমতা বাস্তবায়িত করা যায়। এতে এমন একটা ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে ব্যক্তি তাদের নিজেদের এবং সমাজের স্বার্থে সাধ্যানুযায়ী কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে। এতে আরো থাকতে হবে আর্থ-সামাজিক পুনর্গঠনের জন্য একটি কার্যকর পন্থা, যাতে করে যতক্ষণ সর্বাধিক দক্ষতা ও সুষম বরাদ্দ ও বণ্টন অর্জিত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত এক হাত থেকে অন্য হাতে সম্পদের হস্তান্তর দ্রুততর হয়।
যদি একটি ব্যবস্থার (system) বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশল তার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে লক্ষ্যও বাস্তবায়ন করা যায় না। একটি আমগাছ জন্মাবার জন্য একটি আমের বীজ দরকার, এজন্য একটি লেবুর বীজ তা যত ভালোই হোক না কেন কোনো কাজে দেবে না। যে ব্যবস্থায় তার লক্ষ্য এবং বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশলের মধ্যে অন্তর্নিহিত অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান তা তার অর্থনীতির কাঠামো ও সংগঠন এবং জীবনধারার মধ্যে মৌলিক বিন্যাস ঘটাতে সক্ষম নয়। সুতরাং সেগুলো হয় সংকটপ্রবণ। এরূপ ব্যবস্থায় বসবাসকারী জনগণ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির শিকার হয় যা পূরন করা যায় না এবং এতে কিছু ছোট ধরনের সমন্বয় করা হলে তা কোনো ব্যাপারই নয়। এরূপ ছোটখাট সমন্বয় সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। এগুলো নিছক সামঞ্জস্যহীনতার লক্ষণগুলোকে প্রতিরোধ করে। কিন্তু বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশল এবং লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ফলে সমস্যাগুলো প্রতিবারে ভিন্ন অবয়বে অধিকতর মারাত্মক এবং আরো অবনতিশীলভাবে পুনরায় আবির্ভূত হয়।
যদি একটি ব্যবস্থার (system) বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশল তার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে লক্ষ্যও বাস্তবায়ন করা যায় না। একটি আমগাছ জন্মাবার জন্য একটি আমের বীজ দরকার, এজন্য একটি লেবুর বীজ তা যত ভালোই হোক না কেন কোনো কাজে দেবে না। যে ব্যবস্থায় তার লক্ষ্য এবং বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশলের মধ্যে অন্তর্নিহিত অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান তা তার অর্থনীতির কাঠামো ও সংগঠন এবং জীবনধারার মধ্যে মৌলিক বিন্যাস ঘটাতে সক্ষম নয়। সুতরাং সেগুলো হয় সংকটপ্রবণ। এরূপ ব্যবস্থায় বসবাসকারী জনগণ মিথ্যা প্রতিশ্রুতির শিকার হয় যা পূরন করা যায় না এবং এতে কিছু ছোট ধরনের সমন্বয় করা হলে তা কোনো ব্যাপারই নয়। এরূপ ছোটখাট সমন্বয় সমস্যার গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। এগুলো নিছক সামঞ্জস্যহীনতার লক্ষণগুলোকে প্রতিরোধ করে। কিন্তু বিশ্ববীক্ষণ ও কৌশল এবং লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। ফলে সমস্যাগুলো প্রতিবারে ভিন্ন অবয়বে অধিকতর মারাত্মক এবং আরো অবনতিশীলভাবে পুনরায় আবির্ভূত হয়।