hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৬

মুদ্রাস্ফীতি

সম্প্রতি মুদ্রাস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করলেও উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ে একে যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় বলে ধরে নেয়া হয়েছে। ‘ফিলিপস কার্ভ’ এর মাধ্যমে নীতি নির্ধারকগণ যুক্তি খুঁজে পান যে, মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে তারা প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে পারবেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে অধিকাংশ কীনসীয় অর্থনীতিবিদ মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে কোনো শংকা অনুভব করেননি; বরং তারা মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির নীতিকে সমর্থন দিয়ে যান। ১৯৬১ সালে বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত বক্তৃতামালায় প্রফেসর হেনী ব্রুটন বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি দমনকে অর্থনৈতিক নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না করে বরং উন্নয়নের অস্ত্র হিসেবে একে অর্থনীতিবিদদের মুদ্রাস্ফীতির প্রতি পক্ষপাতিত্বের রাশ টেনে ধরার জন্য যথেষ্ট নয়। মুদ্রাস্ফীতি নীতির আরো ক্ষতিকর প্রক্রিয়া রয়েছে যা উন্নয়নকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ভবিষ্যতে আরো করতে থাকবে।

মুদ্রাস্ফীতির দরুণ মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্যের উপর ভর্তুকি প্রদান করতে হয়। মূল্য এসব দ্রব্যসামগ্রীর দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহকে ব্যাহত করে। অপরদিকে ভর্তুকি প্রদান সরকারি বাজেটের উপর ক্রমাগত দুঃসহ বোঝা চাপিয়ে দেয়। মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির দরুণ যে মূল্যস্ফীতি ঘটে, তা কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে বৈদেশিক বিনিময় হার কৃত্রিমভাবে উঁচু রাখতে হয়। এর ফলে আবার আমদানি উৎসাহিত হয়। বিপরীতি দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্পখাত যা বৃহৎ ভারী শিল্পের মতো সরকারি সহায়তা লাভ করে না। আমদানির উপর নির্ভরতা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং বৈদশিক মুদ্রার ভাণ্ডার সংকুচিত হতে থাকে। ফলে সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়াতে হয়। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ভার জটিলতর হতে থাকে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখে সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভর্তুকি প্রদান নীতি তুলে দিতে এবং বাস্তবসম্মত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ করতে চাইলেও তা পারে না। কেননা সংশোধনমূলক এ ব্যবস্থা জীবনযাত্রা ব্যয়ের উপর চাপ সৃষ্টি করে বিধায় রাজনৈতিকভাবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না। স্যার আর্থার লুইস তাই আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘উন্নত ও অনুন্নত দেশ নির্বিশেষে আমরা এ মৌলিক শিক্ষাই পেয়েছি যে, মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে এক দুঃসহ ক্লেশকর পন্থা’।