১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬৯
ব্যয়ের অগ্রাধিকারসমূহ
মাত্রাতিরিক্ত সরকারি খরচ সত্ত্বেও সরকারসমূহ একদিকে যেমন ভারসাম্যপূর্ণ ও দ্রুত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারেনি, তেমনি মাকাসিদ হাসিলের জন্য অপরিহার্য সেবার পর্যাপ্ত সরবরাহ সৃষ্টি করতে পারেনি। সংখ্যাগুরু জনসাধারণের কল্যাণ যার উপর নির্ভর করে; সেই গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি সমপ্রসারণ সেবাও অবহেলিত। সরকারি বাজেটে গুরুত্ব লাভ করা সত্ত্বেও মুসলিম দেশসমূহে শিক্ষাব্যবস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা ব্যর্থ হয়েছে, যদিও তা ইসলামী সমাজব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ হওয়া উচিত ছিল। চরিত্র গঠনের প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়নি এবং সকল স্তরের জনসাধারণের নিকট সমানভাবে শিক্ষা মনোযোগ দেয়া হয়নি এবং সকল স্তরের জনসাধারণের নিকট সমানভাবে শিক্ষা ও কারিগরী প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় প্রধানত বড় বড় শহরে, বৃহদায়তন মূলধন-নিবিড় হাসপাতালে ও নিরাময় চিকিৎসা কার্যে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বাস করে, যাদের জন্য প্রয়োজন সাধারণ ক্লিনিক, প্যারামেডিক ডাক্তার, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোপরি বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পয়ঃ সুবিধা ও অপুষ্টি দূর করা। এদিকে কোনো গুরুত্বই দেয়া হয়নি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর গৃহায়নের বিষয়টি সরকারি খাতের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়নি বললেই চলে এবং নাগরিক সুবিধাদি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো বস্তি গাজিয়ে উঠেছে। সুদক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে যাদের নিজস্ব যানবাহন নেই, সেই সব দরিদ্র লোকেরা নিদারুণ কষ্ট ভোগ করে চলেছে। এতদসত্ত্বেও ইসলাম ও তার আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পর্কে সর্বদাই ফাঁকা বুলি আওড়ানো হয়েছে। এ বেদনাদায়ক অবস্থঅর ফলে ধীর প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য স্থঅয়ী রূপ নিয়েছে এবং সামাজিক উত্তেজনা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং মুসলিম সরকারগুলোর জন্য তাদের ব্যয় বরাদ্দ এমনভাবে পুনর্গঠন করা প্রয়োজন, যাতে তাদের মোট খরচই শুধু হাস পাবে না, বরং ঐ সকল প্রকল্পে মনোযোগ দেয়া সম্ভব হবে, যা তাদেরকে ত্বরিত উন্নয়ন ও মাকাসিদ হাসিলে সাহায্য করবে।
কতিপয় কারণে সরকারগুলো তাদের সীমিত সম্পদ অধিকতর দক্ষতার সাথে ব্যবহারের জন্য প্রবল প্রচেষ্টা গ্রহণে উদ্যোগী হয়নি। যেমন- প্রথমত, তাদের নিকট ন্যস্ত সম্পদসমূহ যে স্রষ্টার পক্ষ থেকে আমানত-এ বিষয়ে উপলদ্ধির অভাব রয়েছে। এ ব্যর্থতার সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যয়বহুল জীবনযাপন সংযুক্ত হয়ে দুর্নীতির জন্ম দেয়। এ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সমাজের নৈতিক সংশোধনসহ জীবন পদ্ধতির পুনর্গঠন ত্রুটি নিরসন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দেশের নিজস্ব সম্পদ ও মূল্যবোধের সাথে সংবেদনশীল দেশজ উন্নয়ন দর্শনের অভাবের ফলে স্থায়ী অগ্রাধিকারের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। এ অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সম্পদের অপ্রয়োজনীয় থেকে প্রয়োজনীয় এবং অপচয় থেকে গণউৎপাদনমুখী ব্যবহার বাছাই করার স্বীকৃত মানদণ্ড স্থাপন করা সম্ভব নয়। ইসলামী উন্নয়ন দর্শনের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার ব্যতীত নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভবপর বলে মনে হয় না।
তৃতীয়ত, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ‘মূল্য’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় না এবং সম্পদ, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা সুযোগ পরিব্যয়ের (opportunity cost) চেয়ে কম মূল্যে অর্জন ও বিক্রয় করা হয়। এ ব্যবস্থা সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের কারণ হয়।
চতুর্থত, নির্বাচিত সরকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অভাবে জনগণ সরকারের সমালোচনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। জনগণের নিকট দায়বদ্ধ বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
কতিপয় কারণে সরকারগুলো তাদের সীমিত সম্পদ অধিকতর দক্ষতার সাথে ব্যবহারের জন্য প্রবল প্রচেষ্টা গ্রহণে উদ্যোগী হয়নি। যেমন- প্রথমত, তাদের নিকট ন্যস্ত সম্পদসমূহ যে স্রষ্টার পক্ষ থেকে আমানত-এ বিষয়ে উপলদ্ধির অভাব রয়েছে। এ ব্যর্থতার সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যয়বহুল জীবনযাপন সংযুক্ত হয়ে দুর্নীতির জন্ম দেয়। এ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র সমাজের নৈতিক সংশোধনসহ জীবন পদ্ধতির পুনর্গঠন ত্রুটি নিরসন করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দেশের নিজস্ব সম্পদ ও মূল্যবোধের সাথে সংবেদনশীল দেশজ উন্নয়ন দর্শনের অভাবের ফলে স্থায়ী অগ্রাধিকারের অভাব সৃষ্টি হয়েছে। এ অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সম্পদের অপ্রয়োজনীয় থেকে প্রয়োজনীয় এবং অপচয় থেকে গণউৎপাদনমুখী ব্যবহার বাছাই করার স্বীকৃত মানদণ্ড স্থাপন করা সম্ভব নয়। ইসলামী উন্নয়ন দর্শনের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার ব্যতীত নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বিরাজমান বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব নিরসন সম্ভবপর বলে মনে হয় না।
তৃতীয়ত, সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ‘মূল্য’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় না এবং সম্পদ, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা সুযোগ পরিব্যয়ের (opportunity cost) চেয়ে কম মূল্যে অর্জন ও বিক্রয় করা হয়। এ ব্যবস্থা সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের কারণ হয়।
চতুর্থত, নির্বাচিত সরকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অভাবে জনগণ সরকারের সমালোচনা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। জনগণের নিকট দায়বদ্ধ বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।