১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৭৫
প্রতিরক্ষা
যেখানে ব্যাপক সঞ্চয় সম্ভব সে রকমের চতুর্থ ক্ষেত্র হলো প্রতিরক্ষা। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, ‘উচ্চহারে সামরিক ব্যয়ের ফলে আর্থিক ও ঋণ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, স্থিতিশলিতা ও সমন্বয় জটিল রূপ ধারণ করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেছে।’ মাকাসিদ কাঠামোর মধ্যে ও পূর্বালোচিত নীতিমালার আলোকে একথা বলা যায়, বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের ভীতিকর পরিস্থিতির অনুপস্থিতিতে বাজেট বরাদ্দের সিংহভাগ প্রতিরক্ষার জন্য সংরক্ষিত রাখার কোনো যুক্তি নেই। একথা প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় কেবল আর্থিক ব্যয়ই নয়, বরং এর মাঝে অন্য ত্যাগও সংশ্লিষ্ট। এতে দরিদ্র জনগণের কল্যাণ হ্রাস পায়। ফলে সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়।
কেবলমাত্র কয়েকটি মুসরিম রাষ্ট্র প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে আছে। অন্য প্রায় সকল মুসলিম রাষ্ট্রই অবাস্তব অনুমানের উপর প্রতিরক্ষা বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। অধিকন্তু যদি সম্পদের ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়, দুর্নীতি দূর করা যায় (যা যে কোনো ক্ষেত্রের চেয়ে সামরিক বাহিনীতে বেশি) এবং যদি সমঝোতার নীতি গ্রহণ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে অপ্রয়োজনীয় বিবাদ এড়ানো সম্ভব হয়, তবে ¯^í খরচেই উত্তম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্জন করা সম্ভব।
মুসলিম দেশসমূহে দারিদ্র্য ও চরম অসাম্য বিরাজমান এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গণউপযোগের ব্যাপক অভাব রয়েছে, বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দুর্দশা ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মধ্যে জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় সামরিক অস্ত্রশস্ত্রের জন্য বিপুল সম্পদ খরচ করার কোনো নৈতিক বা অর্থনৈতিক যুক্তি থাকতে পারে না। প্রতিরক্ষা ভুঁকির অনুপস্থিতি সরকারসমূহকে তাদের নিজেদের ও ধনীদের নিকট থেকে প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও আর্থিক ত্যাগ দাবি করা থেকে বিরত রাখে। বিপরীত ক্ষেত্রে জীবনযাপন পদ্ধতিতেও সরকারি ব্যয়ে যথানিয়মে আনুপাতিক সমন্বয় সাধন করা হয় না এবং এভাবে মুদ্রাস্ফীতি সরকারি ব্যয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা পূরণের প্রতি স্বল্প গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামরিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণই শহর ও গ্রামের দরিদ্র জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
সরকারসমূহ যেরূপ দাবি করে থাকে, সেরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা উচ্চ সামরিক ব্যয় দ্বারা বাস্তবে অর্জিত হয় না। দরিদ্র মুসলিম দেশসমূহের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শক্তিই হচ্ছে নিরাপত্তার প্রকৃত উৎস। নৈতিক সংশোধন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব। মুসলিম দেশসমূহে অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যার বিরুদ্ধে যে কোনো বিপুল অংকের সামরিক ব্যয় দ্বারা নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং জাতীয় ও ভৌগলিক অখণ্ডতার যে উদ্দেশ্যে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়, কখনও কখনও অত্যধিক সামরিক ব্যয়ের কারণেই তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পল কেনেডি যথার্থই বলেছেন, একটি জাতির জন্য সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী শক্ত অর্থনৈতিক ভিত অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর মৌলিক বিষয়। যে সকল জাতি তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের চেয়ে অধিক সামরিক কার্যকলাপের উপর গুরুত্ব দেয়, তারা পতনের জন্য অপেক্ষা করছে।
সুতরাং, বন্ধুত্ব স্থাপন ও শান্তিপূর্ণ সাহাবস্থানের মাধ্যমে সামরিক ব্যয় ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা মুসলিম দেশসমূহের সরকারি নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রকৃত চাহিদা পূরণে সম্পদের সমপ্রসারণ ঘটানো যায়। যদি এভাবে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে যে সকল প্রতিবেশী দেশ থেকে তারা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধভীতি অনুভব করে, সেসব দেশের সামরিক ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে জনমতের চাপ সৃষ্টি হতে বাধ্য হবে। তখন সকল দেশই অধিক সমৃদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হবে। সুদের উপর ইসলামের নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলে ঋনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা মুসলিম দেশের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশসমূহ বন্ধুত্ব স্থাপন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করতে বাধ্য। রাসূল (ﷺ) এর আদর্শ থেকেও তাদের অনুপ্রেণা গ্রহণ করা উচিত, যিনি শান্তি ও নিরাপত্তার সময় লাভের উদ্দেশ্যে চরম প্রতিকূল শর্ত সত্ত্বেও মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।
কেবলমাত্র কয়েকটি মুসরিম রাষ্ট্র প্রতিরক্ষা ঝুঁকির মধ্যে আছে। অন্য প্রায় সকল মুসলিম রাষ্ট্রই অবাস্তব অনুমানের উপর প্রতিরক্ষা বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। অধিকন্তু যদি সম্পদের ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়, দুর্নীতি দূর করা যায় (যা যে কোনো ক্ষেত্রের চেয়ে সামরিক বাহিনীতে বেশি) এবং যদি সমঝোতার নীতি গ্রহণ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে অপ্রয়োজনীয় বিবাদ এড়ানো সম্ভব হয়, তবে ¯^í খরচেই উত্তম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্জন করা সম্ভব।
মুসলিম দেশসমূহে দারিদ্র্য ও চরম অসাম্য বিরাজমান এবং পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গণউপযোগের ব্যাপক অভাব রয়েছে, বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ দুর্দশা ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার মধ্যে জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় সামরিক অস্ত্রশস্ত্রের জন্য বিপুল সম্পদ খরচ করার কোনো নৈতিক বা অর্থনৈতিক যুক্তি থাকতে পারে না। প্রতিরক্ষা ভুঁকির অনুপস্থিতি সরকারসমূহকে তাদের নিজেদের ও ধনীদের নিকট থেকে প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও আর্থিক ত্যাগ দাবি করা থেকে বিরত রাখে। বিপরীত ক্ষেত্রে জীবনযাপন পদ্ধতিতেও সরকারি ব্যয়ে যথানিয়মে আনুপাতিক সমন্বয় সাধন করা হয় না এবং এভাবে মুদ্রাস্ফীতি সরকারি ব্যয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা পূরণের প্রতি স্বল্প গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে সামরিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার সম্পূর্ণই শহর ও গ্রামের দরিদ্র জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।
সরকারসমূহ যেরূপ দাবি করে থাকে, সেরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা উচ্চ সামরিক ব্যয় দ্বারা বাস্তবে অর্জিত হয় না। দরিদ্র মুসলিম দেশসমূহের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ শক্তিই হচ্ছে নিরাপত্তার প্রকৃত উৎস। নৈতিক সংশোধন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব। মুসলিম দেশসমূহে অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যার বিরুদ্ধে যে কোনো বিপুল অংকের সামরিক ব্যয় দ্বারা নিরাপত্তা অর্জন করা সম্ভব নয়। বরং জাতীয় ও ভৌগলিক অখণ্ডতার যে উদ্দেশ্যে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়, কখনও কখনও অত্যধিক সামরিক ব্যয়ের কারণেই তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পল কেনেডি যথার্থই বলেছেন, একটি জাতির জন্য সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী শক্ত অর্থনৈতিক ভিত অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর মৌলিক বিষয়। যে সকল জাতি তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের চেয়ে অধিক সামরিক কার্যকলাপের উপর গুরুত্ব দেয়, তারা পতনের জন্য অপেক্ষা করছে।
সুতরাং, বন্ধুত্ব স্থাপন ও শান্তিপূর্ণ সাহাবস্থানের মাধ্যমে সামরিক ব্যয় ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা মুসলিম দেশসমূহের সরকারি নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রকৃত চাহিদা পূরণে সম্পদের সমপ্রসারণ ঘটানো যায়। যদি এভাবে কোনো মুসলিম রাষ্ট্র উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে যে সকল প্রতিবেশী দেশ থেকে তারা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধভীতি অনুভব করে, সেসব দেশের সামরিক ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে জনমতের চাপ সৃষ্টি হতে বাধ্য হবে। তখন সকল দেশই অধিক সমৃদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হবে। সুদের উপর ইসলামের নিষেধাজ্ঞা থাকার ফলে ঋনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা মুসলিম দেশের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশসমূহ বন্ধুত্ব স্থাপন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করতে বাধ্য। রাসূল (ﷺ) এর আদর্শ থেকেও তাদের অনুপ্রেণা গ্রহণ করা উচিত, যিনি শান্তি ও নিরাপত্তার সময় লাভের উদ্দেশ্যে চরম প্রতিকূল শর্ত সত্ত্বেও মক্কাবাসীদের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।