১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১৪
সংকট
কল্যাণ রাষ্ট্রের সামনে এখন সমস্যা হচ্ছে, যে ভারসাম্যহীনতা সে সৃষ্টি করেছে তা কিভাবে দূর করবে। মূল্য ছাড়া যার সাহায্যে সামগ্রিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তেমন কোনো স্বীকৃত বিশোধক পদ্ধতি না থাকায় বর্তমান ভারসাম্যহীনতাকে দূর করার জন্য প্রাথমিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উপর নির্ভর করা হচ্ছে। বাজারব্যবস্থায় বিশ্বাসের এ পুনরুজ্জীবন বাজারের ব্যর্থতা ও বৈষম্য এবং বাজার সংশ্লিষ্ট মূল্য পরিশোধে গরীবদের অবমতাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে এনেছে। কল্যাণ রাষ্ট্র এভাবে এক হতবুদ্ধিকর সংকটের সম্মুখীন। যদি প্রাথমিক গুরুত্ব বাজারের উপর দেয়া হয় এবং রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ভূমিকা ভারসাম্যহীনতা অপসারণে প্রত্যাবর্তিত হয়, তাহলে কল্যাণ রাষ্ট্র যে তিমিরে ছিল সেই ছিল তিমরেই থেকে যায়-সে তিমিরটি ধনতন্ত্রের, যেখান থেকে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। অতএব এখন কি করণীয়? গরীবদের স্বস্তি দেয়ার জন্য কল্যাণ রাষ্ট্রের হাতে একমাত্র প্রধান অস্ত্র যা থাকে, তা হচ্ছে উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তবে প্রবৃদ্ধির হার উচ্চ হলেই যে আয় বণ্টন উন্নত হবে তা কিন্তু নয়। আদেলম্যান ও মরিস যেমন বিভিন্ন শ্রেণীর উপাত্তের ভিত্তিতে দেখিয়েছেন, ‘উন্নয়নের পাশাপাশি গরীবদের গড় আয়ের নিরঙ্কুশ ও আপেক্ষিক হ্রাসের অবস্থান থাকে’। উপরন্তু, নিকট ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা খুব বেশি উজ্জ্বল নয়, যদি মুদ্রাস্ফীতি না হয় এবং অন্যান্য ভারসাম্যহীনতার অবনতি ঘটে।
অবশ্যম্ভাবী উপসংহার হচ্ছে, বিরাজমান তিনটি ব্যবস্থা মুসলিম দেশগুলোর জন্য আদর্শ হতে পারে না। সেকুলারপন্থী হলে আত্মিক সুখ তারা দিতেই পারবে না- যে সুখের দাবি হচ্ছে মানবসত্তার আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উভয় চাহিদার পরিতৃপ্তি। যদি তারা মূল্যনিরপেক্ষ হয়, তবে তারা সম্পদের উপর সামগ্রিক দাবি এমনভাবে হ্রাস করতে সক্ষম হবে না, যেমনভাবে সকলের চাহিদাই কেবল পূরণ হয় না, উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজি সৃষ্টির পর্যাপ্ত পর্যায়ও বজায় থাকে। বাজার শক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা একই সাথে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে সহায়তা প্রদান এবং ‘হায়তে তাইয়্যেবা’র চাহিদানুযায়ী পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করতে পারবে না। অতএব মুসলিম দেশগুলোর একমাত্র বিকল্প হচ্ছে তাদের অর্থনীতিকে ইসলামীকরণ।
অবশ্যম্ভাবী উপসংহার হচ্ছে, বিরাজমান তিনটি ব্যবস্থা মুসলিম দেশগুলোর জন্য আদর্শ হতে পারে না। সেকুলারপন্থী হলে আত্মিক সুখ তারা দিতেই পারবে না- যে সুখের দাবি হচ্ছে মানবসত্তার আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উভয় চাহিদার পরিতৃপ্তি। যদি তারা মূল্যনিরপেক্ষ হয়, তবে তারা সম্পদের উপর সামগ্রিক দাবি এমনভাবে হ্রাস করতে সক্ষম হবে না, যেমনভাবে সকলের চাহিদাই কেবল পূরণ হয় না, উচ্চতর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে পুঁজি সৃষ্টির পর্যাপ্ত পর্যায়ও বজায় থাকে। বাজার শক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা একই সাথে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক ও বাহ্যিক ভারসাম্যহীনতা দূরীকরণে সহায়তা প্রদান এবং ‘হায়তে তাইয়্যেবা’র চাহিদানুযায়ী পুনর্বণ্টন নিশ্চিত করতে পারবে না। অতএব মুসলিম দেশগুলোর একমাত্র বিকল্প হচ্ছে তাদের অর্থনীতিকে ইসলামীকরণ।