hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৭

২. সম্পদ একটি আমানত

মানুষের কাছে প্রাপ্ত সকল সম্পদই যেহেতু আল্লাহ প্রদত্ত, সেহেতু খলিফা হিসেবে মানুষ এর মূল মালিক নয়, সে শুধু আমানতদার (আমীন)। এ আমানতদারিত্ব (আমানা) যখন ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অস্বীকৃতি’ বুঝায় না, তখন তাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লেষ থাকে। এ সংশ্লেষগুলো অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও ইসলামে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা সম্পর্কিত ধারণার মধ্যে এক বৈপ্লবিক পার্থ্যক্যের সৃষ্টি করে।

প্রথমত, সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের জন্য নয়, সকলের উপকারের জন্য (কোরআন-২:২৯)। তা অবশ্যই সকলের কল্যাণে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।

দ্বিতীয়ত, প্রত্যেককে অবশ্যই বৈধভাবে সম্পদ অর্জন করতে হবে, যেমনভাবে কোরআন ও সুন্নাহতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এর অন্যথা হলে তা খিলাফতের দায়িত্বের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে।

তৃতীয়ত, সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত হলেও তা আমানতের শর্তের বাইরে ব্যয় করা যাবে না। আর এ আমানতদারিত্ব হচ্ছে শুধু নিজের এবং নিজের পরিবারের কল্যাণ নয়, অন্যের কল্যাণও বটে। একজন আমানতদার হিসেবে মানুষের জন্য এটি শোভন নয় যে, সে স্বার্থপর, সম্পদ লোভী ও বিবেকবর্জিত হবে এবং শুধু নিজের কল্যাণেই কাজ করবে।

চতুর্থত, কেউই আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ ধ্বংস বা অপচয় করার অধিকারী নয়। এ ধরনের কাজকে কোরআন ফাসাদ সৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করেছে (দুরাচার, দুর্বৃত্তি ও অসততা)। আল্লাহ ফাসাদকে ঘৃণা করেন (কোরআন-২:২০৫)। যখন প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) ইয়াযিদ-বিন-আবু সুফিয়ানকে কোনো এক যু্দ্ধের দায়িত্ব দিয়ে পাঠালেন, তখন তিনি তাকে বাছবিচার না করে হত্যা করতে এবং এমনকি শত্রু দেশের শস্যক্ষেত বা জীবজন্তু ধ্বংস করতে নিষেধ করেছিলেন। যুদ্ধকালে শত্রু ভূখণ্ডেই যদি এ ধরনের কাজ অনুমোদিত না হয়, তা হলে শান্তিপূর্ণ সময়ে নিজের দেশে তা অনুমোদিত হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। অতএব মূল্য বৃদ্ধি বা উচ্চমূল্য বজায় রাখার স্বার্থে জ্বালিয়ে দিয়ে বা সাগরে নিক্ষেপ করে উৎপাদিত পণ্য ধ্বংস করার বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ নেই।