১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮৫
বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন
প্রতিবন্ধক অপসারণ
উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, প্রকৃত চাহিদা পূরণ করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। ইসলামী ভোগ পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সঞ্চয় আবশ্যিকভাবে মূলধন গঠন নাও করতে পারে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এমনকি অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের বর্তমান নিম্নহারে সংগঠিত সঞ্চয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে (যেমন স্বর্ণ, মূল্যবান রত্ন ও অলংকারাদি) ও মূলধন পাচারে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে মূলধন পাচার একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এগার বছরে মূলধন আমদানিকারক দেশসমূহের ২৫০ বিলিয়ন ডলার মূলধন বহির্গমনের মধ্যে প্রায় ১৫০-২০০ বিলিয়ন ডলার মূলধন পাচার হয়েছে। এরূপ বিপুল মূলধন বহির্গমনের ফলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং স্থায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনকে আরো কঠিন করে তোলে।
মুসলিম দেশসমূহে সঞ্চয় জমা রাখা ও মূলধন পাচার নিশ্চয়ই উৎপাদনশীল নিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহদানকারী মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্টি হয়নি। পূর্বোল্লিখিত ছয় নম্বর সূত্র অনুযায়ী মাকাসিদ হাসিলে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে উৎপাদনশলি কাজে বিনিয়োগ করা প্রত্যেক মুসলমানের একটি সামাজিক দায়িত্ব। উক্ত সূত্রে বলা হয়েছে, ‘যা ছাড়া কোনো দায় সম্পাদন করা যায় না, তাও দায় হিসেবে গণ্য। মহানবী (ﷺ) এ কথা বলে বিনিয়োগ না করাকে নিরুৎসাহিত করেছেন, “যে (প্রয়োজন ব্যতীত) কোনো বাড়ি বিক্রয় করে, কিন্তু বিক্রয়লব্ধ অর্থ অনুরূপ কোনো কাজে বিনিয়োগ করে না, আল্লাহ তার বিক্রয়লব্ধ অর্থে রহমত করেন না”। খলিফা ওমর (রা) বলতেন, “যার সম্পদ আছে, তাকে তা উন্নত (উন্নয়ন) করতে দাও এবং যার জমি আছে তাকে তা চাষঅবাদ করতে দাও”। মুসলিম সমাজের এ সকল নীতিমালা মর্যাদার প্রতীকরূপে গণ্য, যা আড়ম্বরপূর্ণ ভাগের স্থলে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে পারে। অর্থ এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত ললংকারাদিসহ মোট সম্পদের উপর যে যাকাত ধার্য করা হয়, তা সঞ্চয়কারীদেরকে উপার্জনমূলক আর্থিক ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জনের মাধ্যমে সঞ্চয়ের উপর ধার্যকৃত যাকাতের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।
উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, প্রকৃত চাহিদা পূরণ করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। ইসলামী ভোগ পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সঞ্চয় আবশ্যিকভাবে মূলধন গঠন নাও করতে পারে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, এমনকি অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের বর্তমান নিম্নহারে সংগঠিত সঞ্চয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অনুৎপাদনশীল খাতে (যেমন স্বর্ণ, মূল্যবান রত্ন ও অলংকারাদি) ও মূলধন পাচারে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে মূলধন পাচার একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এগার বছরে মূলধন আমদানিকারক দেশসমূহের ২৫০ বিলিয়ন ডলার মূলধন বহির্গমনের মধ্যে প্রায় ১৫০-২০০ বিলিয়ন ডলার মূলধন পাচার হয়েছে। এরূপ বিপুল মূলধন বহির্গমনের ফলে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে হতাশা সৃষ্টি হয় এবং স্থায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনকে আরো কঠিন করে তোলে।
মুসলিম দেশসমূহে সঞ্চয় জমা রাখা ও মূলধন পাচার নিশ্চয়ই উৎপাদনশীল নিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহদানকারী মূল্যবোধের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্টি হয়নি। পূর্বোল্লিখিত ছয় নম্বর সূত্র অনুযায়ী মাকাসিদ হাসিলে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে উৎপাদনশলি কাজে বিনিয়োগ করা প্রত্যেক মুসলমানের একটি সামাজিক দায়িত্ব। উক্ত সূত্রে বলা হয়েছে, ‘যা ছাড়া কোনো দায় সম্পাদন করা যায় না, তাও দায় হিসেবে গণ্য। মহানবী (ﷺ) এ কথা বলে বিনিয়োগ না করাকে নিরুৎসাহিত করেছেন, “যে (প্রয়োজন ব্যতীত) কোনো বাড়ি বিক্রয় করে, কিন্তু বিক্রয়লব্ধ অর্থ অনুরূপ কোনো কাজে বিনিয়োগ করে না, আল্লাহ তার বিক্রয়লব্ধ অর্থে রহমত করেন না”। খলিফা ওমর (রা) বলতেন, “যার সম্পদ আছে, তাকে তা উন্নত (উন্নয়ন) করতে দাও এবং যার জমি আছে তাকে তা চাষঅবাদ করতে দাও”। মুসলিম সমাজের এ সকল নীতিমালা মর্যাদার প্রতীকরূপে গণ্য, যা আড়ম্বরপূর্ণ ভাগের স্থলে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সাহায্য করতে পারে। অর্থ এবং স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত ললংকারাদিসহ মোট সম্পদের উপর যে যাকাত ধার্য করা হয়, তা সঞ্চয়কারীদেরকে উপার্জনমূলক আর্থিক ও স্থাবর সম্পত্তি অর্জনের মাধ্যমে সঞ্চয়ের উপর ধার্যকৃত যাকাতের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।