১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০০
ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন
কিন্তু দেশের সকল স্থানে কিভাবে ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক শিল্পের বিকাশ উৎসাহিত করা সম্ভব? এজন্য আর্থ-সামাজিক পরিবেশে অনেকগুলো বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রথমত, জীবনযাপনের ধরনে এমন পরিবর্তন আনতে হবে, যা মর্যাদার প্রতীকরূপী আমদানি দ্রব্য থেকে মুক্ত এবং দেশে উৎপাদিত; সাধারণ পণ্যের প্রতি আসক্ত যেগুলো প্রকৃত প্রয়োজন পূরন করে ও ব্যাপকহারে শ্রমশক্তি ব্যবহার করে। দ্বিতীয়ত, সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবর্তন করতে হবে যাতে সেগুলোকে অদক্ষ ও ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে পরিবর্তন করতে হবে যাতে সেগুলোকে অদক্ষ ও ক্ষুদ্র বিবেচনায় বাতিল করা না হয় এবং অতীতের ন্যায় যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিহিত করে পরিত্যাগ করা না হয়। বরং তাদের বিপুল সম্ভাবনাকে পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উৎসাহ দান ও সহযোগিতা করতে হবে। তৃতীয়ত, এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উত্তম উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি কার্যকর বাজারজাতকরণ কৌশল ও অন্যান্য সমপ্রসারণমূলক সেবাসমূহ সংগ্রহে সাহায্যের মাধ্যমে বৃহদায়তন শিল্পের উৎপাদিত ও আমদানিকৃত দ্রব্যের সাথে মান ও মূল্যে প্রতিযোগিতা করার উপযুক্ত করে তুলতে হবে। চতুর্থত, উত্তম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মকুশলতা উন্নত করতে সক্ষম করে তুলতে হবে। এজন্য কর্মকুশলতা প্রকৃত চাহিদা ও প্রদত্ত শিক্ষার মধ্যকার বৈসাদৃশ্য দূর করার জন্য শিকষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পূর্ণায্গ পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। পঞ্চমত, তাদের অর্থায়নের সুযোগ প্রদান করতে হবে, কারণ এদের উন্নয়নে অর্থায়নের অভাবই সবচেয়ে বড় বাধা। সবশেষে, বর্তমানে প্রচলিত বৃহদায়তন শিল্পের প্রতি ঝোঁক যদি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী করা সম্ভব না হয় তবে বিলুপ্ত করতে হবে। কারণ ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানের সমপ্রসারণে এটি অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা।
যদি ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে অধিকতর দক্ষ প্রযুক্তি অর্জনে সাহায্য করা না হয়, তাহলে তাদের মাধ্যমে আমদানি বিকল্প ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য অর্জিত নাও হতে পারে। যাই হোক, যদি এ প্রযুক্তি সহজ হয় তবে ভালো। কারণ এতে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবে। এতে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এভাবে ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ কাজে নিয়োজিত করা যাবে। এতে উচ্চ দক্ষতার চাহিদা সর্বনিম্ন করবে এবং মুসলিম দেশগুলোর দক্ষতা কারিগরী দক্ষতার তুলনামূলক নিম্নমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা হ্রাস পাবে। স্থানীয়ভাবে এর উন্নয়ন ও উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফলে আমদানিকৃত প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। এ প্রতিষ্ঠানসমূহ ছোট শহর ও পল্লী অঞ্চলেও চালু হতে পারবে। ফলে মূলধননিবিড় ও জটিল প্রযুক্তিসম্পন্ন বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ যে সকল সমস্যা সৃষ্টি করে সেগুলো হ্রাস পাবে। যেমন ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তৃতি দ্বারা আঞ্চলিক আয়ের ব্যবধান কমে আসবে এবং কতিপয় বৃহৎ শহরে জনসংখ্যার কেন্দ্রীকরণ সর্বনিম্ন হবে। স্যুমাখার এর ভাষায় এটি হলো, technology with a human face. এরূপ সহজ ও কম ব্যয়বহুল প্রযুক্তির মধ্যে ‘অনুন্নত দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা অতি দ্রুত বৃদ্ধি’ করার মতো সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। সুতরাং, এর দ্বার কেবল আয় ও জীবনযাপনের মানই বৃদ্ধি পাবে না, বরং সম্পদের পুনর্বণ্টনও এর দ্বারা সাধিত হবে।
যদি ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে অধিকতর দক্ষ প্রযুক্তি অর্জনে সাহায্য করা না হয়, তাহলে তাদের মাধ্যমে আমদানি বিকল্প ও রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য অর্জিত নাও হতে পারে। যাই হোক, যদি এ প্রযুক্তি সহজ হয় তবে ভালো। কারণ এতে নিম্নোক্ত সুবিধাসমূহ পাওয়া যাবে। এতে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এভাবে ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ কাজে নিয়োজিত করা যাবে। এতে উচ্চ দক্ষতার চাহিদা সর্বনিম্ন করবে এবং মুসলিম দেশগুলোর দক্ষতা কারিগরী দক্ষতার তুলনামূলক নিম্নমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা হ্রাস পাবে। স্থানীয়ভাবে এর উন্নয়ন ও উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফলে আমদানিকৃত প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাবে। এ প্রতিষ্ঠানসমূহ ছোট শহর ও পল্লী অঞ্চলেও চালু হতে পারবে। ফলে মূলধননিবিড় ও জটিল প্রযুক্তিসম্পন্ন বৃহদায়তন শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ যে সকল সমস্যা সৃষ্টি করে সেগুলো হ্রাস পাবে। যেমন ক্ষুদ্র ও ব্যষ্টিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিস্তৃতি দ্বারা আঞ্চলিক আয়ের ব্যবধান কমে আসবে এবং কতিপয় বৃহৎ শহরে জনসংখ্যার কেন্দ্রীকরণ সর্বনিম্ন হবে। স্যুমাখার এর ভাষায় এটি হলো, technology with a human face. এরূপ সহজ ও কম ব্যয়বহুল প্রযুক্তির মধ্যে ‘অনুন্নত দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা অতি দ্রুত বৃদ্ধি’ করার মতো সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। সুতরাং, এর দ্বার কেবল আয় ও জীবনযাপনের মানই বৃদ্ধি পাবে না, বরং সম্পদের পুনর্বণ্টনও এর দ্বারা সাধিত হবে।