hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৩

কৃষি বনাম শিল্প

উন্নয়নশীল দেশের অধিকাংশ জনগণ গ্রামাঞ্চলে বাস করে। তাই পল্লী ও কৃষি উন্নয়ন ছাড়া তাদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব নয়। পল্লী উন্নয়ন তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেক পথের মাঝে একটি পথ মাত্র নয় বরং পল্লী উন্নয়ন অত্যাবশ্যক ও অপরিহার্য। তবে শিল্পোন্নয়নের সমর্থন ছাড়া পল্লী উন্নয়ন সম্ভব নয়, এ কথাও সত্য। কৃষকদের আয় বাড়ানো প্রয়োজন যাতে তারা উন্নত বীজ, প্রযুক্তি ও সার ব্যবহার করতে পারে। কৃষক পরিবারের বেকার ও অর্ধবেকার সদস্যদের কর্মসংস্থান ব্যতিরেকে আয় বাড়ানো সম্ভব নয়। যুগপৎ গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হবে না। উন্নয়নশীর দেশের অধিকাংশের জন্য তাই পল্লী উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পোন্নয়ন অত্যাবশ্যক। এ দ্বৈত উন্নয়ন প্রক্রিয়া হবে মৌলিক চাহিদা পূরণ ও বৈষম্য হ্রাসের জন্য প্রয়োজন তাই দেশের অর্থনীতির ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নীতি অনুসরণ। গ্রামীণ উন্নয়ন বা শিল্পোন্নয়ন কোনোটাই এককভাবে উন্নয়নশীল দেশের বঞ্ছিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন অর্থনীতির সকল খাতের আধুনিকীকরণ ও বহুমুখীকরণ।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাই কৃষি উন্নয়ন বা শিল্পোন্নয়ন কোনো বিকল্প পন্থা নয় যে তাদেরও মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিলেই হলো। এ উভয় খাত পরস্পর নির্ভরশীল এবং এক অন্যের পরিপূরক। প্রকৃত প্রস্তাবে কৃষি খাত বা শিল্প খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য হচ্ছে, কিভাবে এ খাতদ্বয়ের উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায়। যদি নীতি নির্ধারকদের লক্ষ্য হতো আপামর সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধান করা, তবে তারা অবশ্যই কৃষি ও শিল্প উভয় খাতের যুগপৎ উন্নয়নে মনোযোগী হতেন। এসব আলোচনা হতে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কোনো অর্থনৈতিক কর্মসূচি যা অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন হারের বৈষম্যমূলক প্রবৃদ্ধি বা unbalanced growth এর তত্ত্ব উপস্থাপন করে, তথা কৃষি বা শিল্প কোনো খাতকে অধিক গুরুত্ব প্রদান করে, তা জনগণের জন্য দুর্দশা, কল্যাণ ও সংকট ব্যতিরেকে অন্য কিছু বয়ে আনে না। এ ধরনের একদেশদর্শী নীতি একবার চালু হলে তার কুফল পরিবর্তনের জন্য পরবর্তীতে প্রয়োজন হয় সংশোধনমূলক নীতিমালার প্রবর্তন। এ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ ও প্রয়োগ কখনো সহজ ও সমস্যা মুক্ত হয় না।