১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩২
রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়
গৌরবের শীর্ষে পৌছার পর ক্রমান্বয়ে সময়ের বিবর্তনে মুসলিম সমাজ রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হয়ে পড়ে এবং প্রেরণা ও গতিবেগ হারিয়ে ফেলে। প্রথমেই যে জিনিসটি পরিত্যক্ত হলো তা হলো ইসলামের খিলাফত ব্যবস্থা। এ প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাটি ছিল ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সর্বোত্তম রূপ। এর স্থান দখল করে নেয় একনায়কতান্ত্রিক ও বংশানুক্রমিক শাসনব্যবস্থা, যা শুরা বা ইসলামের গণতান্ত্রিক পরামর্শ ব্যবস্থার ধারাকে পরিত্যাগ করে। ফলে অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কুফল ক্রমান্বয়ে পুঞ্জীভূত হয়ে উঠল। ঈমানের প্রতি আবেগানুভূতি বজায় থাকা সত্ত্বেও ইসলামী শিক্ষার অনুশীলনে ক্রমাগত শিথিলতা দেখা দিলো। ইসলামী আদর্শ হতে ক্রমশ বিচ্যুত হয়ে মুসলমানরা চরিত্রের দৃঢ়তা হারিয়ে ফেলল। মুসলিম সমাজের তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য তথা চরিত্রের দৃঢ়তা, ভ্রাতৃত্ববোধের সুদৃঢ় বন্ধন এবং দুর্নীতিহীন ন্যঅয়পরতা ক্রমাগত বিলুপ্ত হয়ে গোলো। ফলে মুসলমানরা আরো দুর্বল হয়ে পড়ল। তারা জীবনী শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য হ্রাস পেল। সভ্যতার পতন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ঐতিহাসিক ট য়েনবীর অনুসরণে বলা যায় ‘মুসলিম সমাজ তার পারিপার্শ্বিকতার উপর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ হারাল।’
পারিপার্শ্বিকতার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে বৈদেশিক আধিপত্যের দুয়ার উম্মোচিত হলো। প্রাণশক্তিকে তা আরো শুষে নিলো। মুসলিম দেশগুলো কার্যকর জাতিসত্তা হতে বঞ্চিত হলো, বঞ্চিত হলো অর্থনীতির সুষম উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম স্বাধীন ও ইসলামী মনোভাবাপন্ন সরকার হতে। জাপান, দড়্গিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে দখলদার মিত্রশক্তি যে বৈপ্লবিক ভূমি সংস্কারনীতি গ্রহণ করেছিল, সেরূপ ব্যবস্থা না নিয়ে মুসলিম দেশসমূহ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর সুবিধাভোগী শ্রেণী বিশেষ করে সামনত্ম শ্রেণীর সাথে মিত্রতা গড়ে তুলল। মিরডালের ভাষায়, ‘এসব সামনত্ম সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিবস্থার অধীনে তারা ছিল সবচেয়ে সুবিধাভোগী’ এবং এ অবস্থা বজায় রাখতে তারা ছিল খুবই আগ্রহী।৪ ফলে জনগণের উপর জুলুম, শোষণ ও নিপীড়নের শক্তিসমূহ আরো জোরদার হলো। মুসলিম সমাজের ভাঙন ও অবক্ষয় দ্রুততর হলো। ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তনের জনমত ও দাবিকে দাবিয়ে রাখা হলো। এ লক্ষ্য অর্জনের কর্মসূচি বাসত্মবায়ন দূরে থাক, রচনারও কোনো সুযোগ প্রদান করা হলো না।
পারিপার্শ্বিকতার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে বৈদেশিক আধিপত্যের দুয়ার উম্মোচিত হলো। প্রাণশক্তিকে তা আরো শুষে নিলো। মুসলিম দেশগুলো কার্যকর জাতিসত্তা হতে বঞ্চিত হলো, বঞ্চিত হলো অর্থনীতির সুষম উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম স্বাধীন ও ইসলামী মনোভাবাপন্ন সরকার হতে। জাপান, দড়্গিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে দখলদার মিত্রশক্তি যে বৈপ্লবিক ভূমি সংস্কারনীতি গ্রহণ করেছিল, সেরূপ ব্যবস্থা না নিয়ে মুসলিম দেশসমূহ ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীর সুবিধাভোগী শ্রেণী বিশেষ করে সামনত্ম শ্রেণীর সাথে মিত্রতা গড়ে তুলল। মিরডালের ভাষায়, ‘এসব সামনত্ম সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিবস্থার অধীনে তারা ছিল সবচেয়ে সুবিধাভোগী’ এবং এ অবস্থা বজায় রাখতে তারা ছিল খুবই আগ্রহী।৪ ফলে জনগণের উপর জুলুম, শোষণ ও নিপীড়নের শক্তিসমূহ আরো জোরদার হলো। মুসলিম সমাজের ভাঙন ও অবক্ষয় দ্রুততর হলো। ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তনের জনমত ও দাবিকে দাবিয়ে রাখা হলো। এ লক্ষ্য অর্জনের কর্মসূচি বাসত্মবায়ন দূরে থাক, রচনারও কোনো সুযোগ প্রদান করা হলো না।