hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪২

প্রেষণা

যদি মানুষকে যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ করা না যায় তবে কোনো ব্যবস্থাই সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা অথবা উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিতরণে সমতা আনতে পারে না। ব্যক্তি মানুষকে তার সর্বোচ্চ কর্মক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সীমিত সম্পদের সর্বাধিক দক্ষতার সাথে ব্যবহার নিশ্চিতকরণের আবশ্যিক শর্ত রয়েছে। সে শর্ত হচ্ছে, ব্যক্তি মানুষটির নিজস্বার্থ ও সুযোগ সুবিধা যেন যথাযথভাবে চরিতার্থ ও সংরক্ষিত হয়। সমাজতন্ত্র ছিল অবাস্তব ও অতি সরলীকরণ, কেননা এটি আশা করেছিল, মানুষ নিজের স্বার্থ হতে বঞ্চিত হওয়া সত্ত্বেও দক্ষতার সাথে কাজ করবে। ফলে সমাজতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিবাদ অবাস্তব, কেননা এটা ধরে নিয়েছে যে, ব্যক্তিস্বার্থ ও সমাজস্বার্থ সব সময় সমঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পুঁজিবাদের সেকুলার ও ইহজাগতিক পরিপ্রেক্ষিত এমন কোনো উজ্জীবনী প্রক্রিয়ার উন্মোষ ঘটাতে পারেনি, যা মানুষকে সামাজিক স্বার্থে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে, বিশেষত যখন ঐ সামাজিক স্বার্থ সরাসরি ব্যক্তিস্বার্থের পরিপন্থি হয়।

মানুষের ব্যক্তিস্বার্থের মাঝে একটি নৈতিকতার অনুভূতি সৃষ্টি করা না গেলে মানুষকে একই সাথে দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব নয়। মানুষকে নৈতিকতার অনুভূতি দ্বারা উজ্জীবিত করা গেলে তা ব্যক্তিস্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হলেও সমাজস্বার্থকে সে বিঘ্নিত করবে না। কিন্তু মানুষকে নৈতিকতা মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধকরণে শুধুমাত্র ওয়াজ নসিহতের উপর নির্ভরশীলতা বাস্তবসম্মত নয়। নৈতিক মূল্যবোধের স্ফূরণ ও উজ্জীবন ঘটাবার জন্য প্রয়োজন আর্থ-সামাজিক অবস্থার এমন পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস, যাতে আর্থ-সামাজিক সুবিচারকে বিঘ্নিত না করেই কেবলমাত্র মানুষ তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে পারে।