hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪৩

আর্থ-সামাজিক সুবিচার

অধিকাংশ মুসলিম দেশে বস্তুগত পারিতোষিকের বন্টন প্রণালী প্রবলভাবে বৈষম্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ মানুষ তাদের শ্রম, সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার জন্য ন্যায্য পাওনা হতে বঞ্চিত। স্বাভাবিকভাবে তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছে। তাদের উদ্যম, উৎসাহ ও দক্ষতা দারুণভাবে ভাটা পড়েছে। দুটি প্রধান কারণ এর জন্য দায়ী। প্রথমত, বাস্তবতাবর্জিত ও পক্ষপাতদুষ্ট সরকারি নীতিমালা; এবং দ্বিতীয়ত, গ্রাম ও নগর উভয় অঞ্চলে মুষ্টিমেয় হাতে সম্পদ ও ক্ষমতার কুক্ষিগতকরণ।

বাস্তবতাবর্জিত ও পক্ষপাতদুষ্ট সরকারি নীতির পৃষ্ঠপোষতার উৎপাদন উপকরণ ও উৎপাদিত পণ্যের মূল্য যথার্থ না রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশেষ শ্রেণীর প ক্ষে বিকৃত করা হয়েছে। বর্গাচাষী, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পজীবি এবং শ্রমিক শ্রেণীর আয় তাতে ভীষণভাবে কমে গেছে। ক্রয় ক্ষমতা না থাকায় তাদের দ্রব্যসামগ্রী ক্রয়ের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন উপকরণ তাই স্বল্প আয়ের মানুষের মৌলিক দ্রব্য সামগ্রী উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বিত্তশালীদের বিলাসী চাহিদার খাতে তা প্রবাহিত হয়েছে। অংশত সরকারি নীতি, শোষণমুলক অর্থননৈতিক ব্যবস্থার ফলে গুটিকয়েক হাতে সম্পদ ও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল চলে আসছে। অবাধ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার দ্বার রুদ্ধ হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণীর শোষক শক্তিও দূরভিসন্ধিমূলক পারস্পরিক গাঁটছড়া বাধায় অধিকতর শক্তিশালী হয়েছে। জনসাধারণের দুর্দশা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।