hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৫

রাজনৈতিক গণতন্ত্র

অর্তনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির সাথে রাজনৈতিক গণতন্ত্র চর্চা শুরু করা হয়নি। রাজনৈতিক একনায়কতন্ত্র ও নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে। রাজনৈতিক স্বধীনতার অস্ত্বিহীনতা অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে বিকলাঙ্গ করে দেয় এবং অবয়বে বেড়ে ওঠার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। দমননীতি দ্বারা চালিত সরকারের কায়েমী স্বার্থ যেভাবে চরিতার্থ হবে সে পথেই সংস্কার কর্মসূচিকে চলতে দেয়া হয়। আংশিক ও অবিন্যস্ত সংস্কার কর্মসূচি অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে ব্যর্থ হয় বলে লক্ষ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়নি। এর সাথে দুর্নীতি ও অদক্ষতা সম্পদের অপচয় ঘটিয়ে ঘাটতি ও সংকটের সৃষ্টি করে। যদি অর্থনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক গণতন্ত্রও চালু হতো তবু তা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হতো না। বিকেন্দ্রীকরণের সাহায্যেআমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার অপসারণ এবং বাজার শক্তির পুনরাবির্ভাবের ফলে সম্পদের বন্টনে অবশ্য নিঃসন্দেহে দক্ষতার সৃষ্টি হতো। তবে তা বাজার অর্থনীতিতে জাতীয়করণকৃত শিল্প সংস্থায় যে দক্ষতা বিরাজমান তার চেয়ে অধিক হতোনা। উৎপাদন উপকরণের ব্যাক্তিগত মালিকানার অনুপস্থিতির ফলে বাজার অর্থনীতি থেকে যে স্বতঃস্ফুর্ত উদ্যোগ বেরিয়ে আসে উৎপাদন উপকরণের ব্যক্তিগত মালিকানার অভাবে তা বাজার সমাজতন্ত্রে পাওয়া কখনো সম্ভব নয়, ফলে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবেই। বাজার সমাজতন্ত্রকে যদি প্রকৃত অর্থে একটি কার্যকর ও প্রকৃত বিশ্বদৃষ্টির কাঠামোর মধ্যে বিন্যস্ত করা না যায়, তবে বাঞ্ছনীয় ন্যায়পরতা, যা বাজার অর্থনীতিও প্রদানের ব্যর্থ হয়েছে, তা কখনোই অর্জন করা সম্ভব হবেনা। শুধুমাত্র এ ধরণের বিশ্ব দর্শনভিত্তিক বাজার সমাজতন্ত্রই কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণে কর্মোদ্দীপনা সৃষ্টি, সুষম বন্টনব্যবস্থা ও আর্থ-সামাজিক পুনর্বিন্যাস ঘটাতে পারে। এরূপ দর্শনের অভাবে কার্যকর ব্যবস্থা ও কৌশল গড়ে উঠতে পারেনি। এসব বাজার সমাজতন্ত্র অভিমুখী দেশসমূহ তাই শুধুমাত্র তাদের নিজেদের সমস্যা সমাধানেই ব্যর্থ হয়নি উপরন্তু তারা বাজেট ঘাটতি মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, উচ্চ বৈদেশিক ঋণ প্রভৃতি অর্থনৈতিক সমস্যা, এতোদিন যা পুঁজিবাদী অর্থনীতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছিল, তার ঘূর্ণিপাকেও পতিত হয়েছে। অধিকন্তু আয়ের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে।