১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৮
পরিকল্পনা বিষয়ক জটিলতা
উন্নয়নশীল দেশে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রচনার ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে, তা যথাযথ গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করা হয়নি। অপরদিকে উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে অতিরিক্ত ফলাফল আশা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় উপাত্তের অভাব এবং উপাত্তসমূহের অসম্পূর্ণতা ও নির্ভরযোগ্যহীনতা সফল উন্নয়ন পরিকল্পনা রচনার সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উপাদান যথা মোট সঞ্চয়, পুঁজি, বেকারত্বের পরিমাণ, বিনিয়োগ প্রকল্পের মূল্যমান প্রভৃতি পরিমাপের জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্তের অপর্যাপ্ততার কারণে পরিকল্পনায় সৃষ্ট ভুলের মাত্রা বিরাট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপরন্তু একটি পরিকল্পনা মডেল হতে অতিরিক্ত আশা করার প্রবণতা দেখা দিলো। এটা অনুধাবন করা হলো না যে, বিভিন্ন বিকল্পের মাঝে সঠিক পন্থাটি বাছাই করে নেয়ার যে কঠিন সিদ্ধান্ত নীতি নির্ধারকদের নিতে হয়, নিছক কোনো উন্নয়ন মডেল সে সমস্যাটিকে অপসারণ বা সহজতর করে দিতে পারে না। অগ্রাধিকার নির্ধারণ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার বহুবিধ উদ্দেশ্যের মাঝে যে পারস্পরিক সংঘাত আছে তা নিরসন করা সম্ভব নয়। উন্নয়ন দর্শন যা মূল্যবোধ ও বস্তুগত লক্ষ্যের দিকনির্দেশনা দেয়, তার স্থান কখনো একটি যান্ত্রিক ‘ইকোনমেট্রিক মডেল’, দখল করতে পারে না। ‘প্যারেটো অপটিমালিটি’র ধারণা ও লক্ষ্যও এভাবে অর্জন করা যায় না। সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে দ্বিধাহীন চিত্তে নীতি নির্ধারকদের উন্নয়ন দর্শন গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকে উৎসাহের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ ধরণের দর্শন ও অনুপ্রেরণার অভাব ও অনুপস্থিতিই ব্যাখ্যা করে কেন সকল উন্নয়ন পরিকল্পনাই তার উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে ন্যায়পরতা বিধান করছে, অথচ কোনো পরিকল্পনা মডেলই উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো কার্যকর পন্থা ও পদ্ধতি বাতলে দিতে পারেনি।
একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে যেসব সমস্যার উদ্ভব হতে পারে, তা নিরসনের দিকে পূর্ব হতে যথাযথ মনোযোগ দেয়া হয় না। অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সুসংগত ও পরিপক্কতার বিচারে কাগজে কলমে সঠিক বলে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের অভাবে ঐসব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ লাভ করে না। পরিকল্পনাগুলো আধুনিক ‘ইকোনমেট্রিক মডেলে’র সহায়তায় প্রণয়ন করা হয় বিধায় তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুত পরিকল্পনাগুলো এতো বেশি মার্জিত ও পরিশীলিত যে, তা কাগজে কলমেই সুশোভন, কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্য নয়। পাশ্চাত্যের উচ্চ তাত্ত্বিক মডেলগুলো অনুসরণ না করে অর্থনীতির প্রাথমিক ও সরল মূলনীতিগুলোর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো অধিক উপকৃত হতে পারত। ম্যাক্রো-ইকোনমিক মডেলগুলোর পরিমাপযোগ্য উন্নয়ন উপাদানসমূহের প্রতি পক্ষপাতিত্বের প্রবণতা রয়েছে। যদিও অপরিমাপযোগ্য উন্নয়ন উপাদানগুলোরও পরিকল্পনার লক্ষ্য বিশেষত আর্থ-সামাজিক ন্যায়নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি ‘ইকোনমেট্রিক মডেল’ অঙ্ক শাস্ত্রের নিরিখে যত বেশি সুশৃঙ্খলাবদ্ধ, তার তত বেশি অর্থনীতির বাইরের সামাজিক উপাদানগুলো গ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিকরণের সম্ভাবনা কম থাকে। প্রফেসর গলব্রেথের ভাষায়, ‘উন্নয়ন সমস্যাটির দিকে সাধারণভাবে দৃকপাত করলেই দেখা যায়, কার্যকর সরকার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুবিচারের বিষয়গুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশেই উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এগুলোকে চিহিন্ত করতে না পারাই প্রধান সমস্যা। এ বাধাগুলো যতদিন অপসারণ না করা যাবে, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পুঁজি বিনিয়োগ হতে তত দিন বেশি কিছু আশা করা যায় না। একটি পরিকল্পনা কাগজে কলমে যত বেশি বড় হবে, তা তত বেশি ক্ষুদ্র ফল প্রসব করবে।
উপরন্তু একটি পরিকল্পনা মডেল হতে অতিরিক্ত আশা করার প্রবণতা দেখা দিলো। এটা অনুধাবন করা হলো না যে, বিভিন্ন বিকল্পের মাঝে সঠিক পন্থাটি বাছাই করে নেয়ার যে কঠিন সিদ্ধান্ত নীতি নির্ধারকদের নিতে হয়, নিছক কোনো উন্নয়ন মডেল সে সমস্যাটিকে অপসারণ বা সহজতর করে দিতে পারে না। অগ্রাধিকার নির্ধারণ ছাড়া উন্নয়ন পরিকল্পনার বহুবিধ উদ্দেশ্যের মাঝে যে পারস্পরিক সংঘাত আছে তা নিরসন করা সম্ভব নয়। উন্নয়ন দর্শন যা মূল্যবোধ ও বস্তুগত লক্ষ্যের দিকনির্দেশনা দেয়, তার স্থান কখনো একটি যান্ত্রিক ‘ইকোনমেট্রিক মডেল’, দখল করতে পারে না। ‘প্যারেটো অপটিমালিটি’র ধারণা ও লক্ষ্যও এভাবে অর্জন করা যায় না। সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে দ্বিধাহীন চিত্তে নীতি নির্ধারকদের উন্নয়ন দর্শন গ্রহণ করতে হবে এবং জনগণকে উৎসাহের সাথে তাতে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ ধরণের দর্শন ও অনুপ্রেরণার অভাব ও অনুপস্থিতিই ব্যাখ্যা করে কেন সকল উন্নয়ন পরিকল্পনাই তার উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে ন্যায়পরতা বিধান করছে, অথচ কোনো পরিকল্পনা মডেলই উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো কার্যকর পন্থা ও পদ্ধতি বাতলে দিতে পারেনি।
একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে যেসব সমস্যার উদ্ভব হতে পারে, তা নিরসনের দিকে পূর্ব হতে যথাযথ মনোযোগ দেয়া হয় না। অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সুসংগত ও পরিপক্কতার বিচারে কাগজে কলমে সঠিক বলে দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের অভাবে ঐসব পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ লাভ করে না। পরিকল্পনাগুলো আধুনিক ‘ইকোনমেট্রিক মডেলে’র সহায়তায় প্রণয়ন করা হয় বিধায় তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বস্তুত পরিকল্পনাগুলো এতো বেশি মার্জিত ও পরিশীলিত যে, তা কাগজে কলমেই সুশোভন, কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্য নয়। পাশ্চাত্যের উচ্চ তাত্ত্বিক মডেলগুলো অনুসরণ না করে অর্থনীতির প্রাথমিক ও সরল মূলনীতিগুলোর সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো অধিক উপকৃত হতে পারত। ম্যাক্রো-ইকোনমিক মডেলগুলোর পরিমাপযোগ্য উন্নয়ন উপাদানসমূহের প্রতি পক্ষপাতিত্বের প্রবণতা রয়েছে। যদিও অপরিমাপযোগ্য উন্নয়ন উপাদানগুলোরও পরিকল্পনার লক্ষ্য বিশেষত আর্থ-সামাজিক ন্যায়নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একটি ‘ইকোনমেট্রিক মডেল’ অঙ্ক শাস্ত্রের নিরিখে যত বেশি সুশৃঙ্খলাবদ্ধ, তার তত বেশি অর্থনীতির বাইরের সামাজিক উপাদানগুলো গ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিকরণের সম্ভাবনা কম থাকে। প্রফেসর গলব্রেথের ভাষায়, ‘উন্নয়ন সমস্যাটির দিকে সাধারণভাবে দৃকপাত করলেই দেখা যায়, কার্যকর সরকার, শিক্ষা এবং সামাজিক সুবিচারের বিষয়গুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশেই উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এগুলোকে চিহিন্ত করতে না পারাই প্রধান সমস্যা। এ বাধাগুলো যতদিন অপসারণ না করা যাবে, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পুঁজি বিনিয়োগ হতে তত দিন বেশি কিছু আশা করা যায় না। একটি পরিকল্পনা কাগজে কলমে যত বেশি বড় হবে, তা তত বেশি ক্ষুদ্র ফল প্রসব করবে।