hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬১

উত্তরাধিকার

ইসলাম অধিকতর ন্যায়পরায়ণতার সাথে সম্পদ বণ্টনের জন্য একটা সুন্দর উত্তরাধিকার ব্যবস্থার বিধান দিয়েছে। আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের ভিত্তিতে শরীয়াহ উত্তরাধিকারের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কাউকে বৈধ উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, যদি না সে সম্পদের পূর্ব মারিককে হত্যার দায়ে দোষী হয়। এছাড়া কোনো ব্যক্তি তার সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারে না। এরূপ এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি ব্যয় করতে হবে দাতব্য সেবায় অথবা এমন ব্যক্তির জন্য যে ঐ সম্পত্তিতে অংশ পাবে না (অবশ্য যদি সকল উত্তরাধিকারী একমত হয়)।

মৃত ব্যক্তির জীবিত মাতা-পিতার জন্যও নির্ধারিত অংশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু তাদের কল্যাণই নিশ্চিত হয় না, মাতা-পিতার মৃত্যুর পর ভাইবোনদের মধ্যে মাতা-পিতার অংশ বিতরণের ব্যবস্থা হয়। স্ত্রীকেও একটি নির্ধারিত অংশ দেয়া হয়। অবশিষ্টাংশ মৃত ব্যক্তির সন্তানদের জন্য নির্ধারণ করা আছে। ইসলামী মূল্যবোধের আওতায় কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ অন্যদের বঞ্চিত করে কেবলমাত্র একজন সন্তানকে দিতে পারেন না। যদি মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান না থাকে তাহলে নির্ধারিত নিয়মে সম্পত্তির ব্যাপকভিত্তিক ও সুসম বণ্টন করতে হবে। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির ব্যাপকভিত্তিক বণ্টন ছাড়া ইসলামের উত্তরাধিকার নীতিমালার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। যদি ইসলামী মূল্যবোধ কার্যকর করা হয়, তাহলে মুসলিম সমাজে সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং তা অব্যাহত না থেকে পারে না।