১
ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
অসফল প্রতিবাদ
মানুষ ও বিশ্ব সম্পর্কে এই যে যান্ত্রিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদ হয়নি এমন নয়। রুশো, কান্ট ও বার্গসনের মতো রোমান্টিক ও আদর্শবাদী দার্শনিক এবং অসংখ্য ধর্মবেত্তাগণ তীক্ষ্ম প্রতিবাদ উচ্চারণ করেন। তারা জ্ঞানের ক্ষেত্রে যুক্তির সীমাবদ্ধতাসমূহের উপর আলোকপাত এবং অনুভূতি ও সংজ্ঞার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এভাবে তারা মহাজাগতিক বিশ্ব পরিকল্পনায় মানুষের অনন্য অবস্থানকে চিহ্নিতও করতে চান। তারা রেঁনেসা চিন্তাধারার অন্তঃসারশূন্যতাকে তুলে ধরেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ ভলতেয়ারের ‘কেনডাইড’-কে (Candide) “ভাঁড়ের কলম হতে বেরিয়ে আসা অখাদ্য” হিসেবে বর্ণনা করেন। রোমান্টিক দার্শনিকদের দৃষ্টিতে রেঁনেসাবাদী দার্শনিকগণের দর্শন অনুভূতিহীনতা, নিরেট যান্ত্রিকতা, অবাস্তবতা ও অমানবিকতার দোষে দুষ্ট।
কিন্তু পাশ্চাত্যে সেকুলারতার যে জোয়ার উত্তাল হয়ে উঠেছিল, রোমান্টিক দার্শনিকগণের প্রচেষ্টা তা রোধ করতে ব্যর্থ হয়। দেকার্তে, স্পিনোজা লিবনিজ এবং লকের মতো রেঁনেসার প্রাথমিক চিন্তাবিদগণ তাদের যুক্তিবাদ বা প্রত্যাদিষ্ট ধর্মের প্রতি বিরোধিতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাননি। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভলতেয়ার, হিউম এবং হলব্যাচের মতো চিন্তাবিদগণ ছিলেন ভিন্নতর। তারা শুধু অধিকতর বস্তুবাদীই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন।
ফলে রেঁনেসা আন্দোলন যা কতিপয় বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করে একসময় বুদ্ধিজীবী সমাজের বৃহদাংশসহ জনসাধারণের উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আকৃষ্ট করে ফেলে। ই. এফ. শুমেকারের ভাষায়, ‘উনবিংশ শতাব্দীর এই মতাদর্শ শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে আজকের পশ্চিমারা বিশেষত আমেরিকানরা এখনো রেঁনেসা যুগের আত্মিক সন্তান’।
রেঁনেসা চিন্তাধারার জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও স্রষ্টায় বিশ্বাস, আস্থা ও আশা মানব হৃদয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহে দৃঢ়মূল ছিল এবং তারা যুক্তিবাদী ধ্যানধারণার কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। সার্বিক নিরশ্বরবাদের অস্তিত্ব যেমন আজকে নেই তেমনি রেঁনেসা যুগেও ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তখন যা ঘটেছিল তা হলো, রেঁনেসা চিন্তাধারার মোকাবিলায় সমাজে সম্মিলিত শক্তি হিসেবে ধর্মের ভূমিকা হ্রাসপায় এবং সেকুলারমতবাদ ধর্মের স্থান দখল করে নেয়। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। নৈতিক মূল্যবোধ তার সামাজিক আইনগত ক্ষমতা হারায় এবং সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ অপরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষাসূচি কদাচিৎ বাধ্যতামূলক করা হয়, ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে তা আর ছাত্রদের আকর্ষণ করল না। কেননা শিক্ষার্থীরা বাস্তব জগতে যা তাদের জন্য লাভজনক হবে, সেসব বিষয়ের প্রতিই মনোযোগী হলো।
কিন্তু পাশ্চাত্যে সেকুলারতার যে জোয়ার উত্তাল হয়ে উঠেছিল, রোমান্টিক দার্শনিকগণের প্রচেষ্টা তা রোধ করতে ব্যর্থ হয়। দেকার্তে, স্পিনোজা লিবনিজ এবং লকের মতো রেঁনেসার প্রাথমিক চিন্তাবিদগণ তাদের যুক্তিবাদ বা প্রত্যাদিষ্ট ধর্মের প্রতি বিরোধিতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাননি। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভলতেয়ার, হিউম এবং হলব্যাচের মতো চিন্তাবিদগণ ছিলেন ভিন্নতর। তারা শুধু অধিকতর বস্তুবাদীই ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন ধর্মের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন।
ফলে রেঁনেসা আন্দোলন যা কতিপয় বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমে সূচিত হয়েছিল, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করে একসময় বুদ্ধিজীবী সমাজের বৃহদাংশসহ জনসাধারণের উল্লেখযোগ্য অংশকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আকৃষ্ট করে ফেলে। ই. এফ. শুমেকারের ভাষায়, ‘উনবিংশ শতাব্দীর এই মতাদর্শ শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে আজকের পশ্চিমারা বিশেষত আমেরিকানরা এখনো রেঁনেসা যুগের আত্মিক সন্তান’।
রেঁনেসা চিন্তাধারার জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও স্রষ্টায় বিশ্বাস, আস্থা ও আশা মানব হৃদয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহে দৃঢ়মূল ছিল এবং তারা যুক্তিবাদী ধ্যানধারণার কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। সার্বিক নিরশ্বরবাদের অস্তিত্ব যেমন আজকে নেই তেমনি রেঁনেসা যুগেও ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তখন যা ঘটেছিল তা হলো, রেঁনেসা চিন্তাধারার মোকাবিলায় সমাজে সম্মিলিত শক্তি হিসেবে ধর্মের ভূমিকা হ্রাসপায় এবং সেকুলারমতবাদ ধর্মের স্থান দখল করে নেয়। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। নৈতিক মূল্যবোধ তার সামাজিক আইনগত ক্ষমতা হারায় এবং সামাজিক নৈতিক মূল্যবোধ অপরিচিত বিষয়ে পরিণত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈতিক শিক্ষাসূচি কদাচিৎ বাধ্যতামূলক করা হয়, ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে তা আর ছাত্রদের আকর্ষণ করল না। কেননা শিক্ষার্থীরা বাস্তব জগতে যা তাদের জন্য লাভজনক হবে, সেসব বিষয়ের প্রতিই মনোযোগী হলো।