hadith book logo

ইসলাম ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

লেখকঃ ড. এম উমর চাপরা • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৬

শ্রমনিবিড় পদ্ধতি

শ্রমনিবিড় প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এসব দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। ফলে বৈষম্য আরো হ্রাস পেয়ে ন্যায়পরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যে পথ অনুসরণ করেছে, তাইওয়ান তার চেয়ে একটু ভিন্ন পাথ অনুসরণ করেছে। কৃষি ও শিল্প ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের ভূমিকাকে তাইওয়ান সবিশেষ গুরুত্ব দেয়। ব্যবসা বাণিজ্যে বৃহৎ কোম্পানীগুলোকে একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা লাভ করতে দেয়নি। এ নীতির ফলে শ্রমনিবিড় উৎপাদন পদ্ধতি আরো বেশি প্রসার লাভ করে। বেকারত্ব ও অর্ধ-বেকারত্বের পরিধি আরে হ্রাস পায়। ক্ষুদ্র কৃষকগণ তাদের গ্রামীণ পটভূমিকায় আয় বৃদ্ধির সুযোগ লাভ করে। শিল্পোন্নত দেশের সার্বক্ষণিক মাথাব্যথা বেকার সমস্যার এদেশগুলোতে এভাবে সমাধান ঘটে। গামীণ কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি গ্রামীণ আয়ের বিপুল স্ফীতি ঘটায়। ১৯৮০ সালের পরিসংখ্যান হতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সর্বমোট আয়ের তিন চতুর্থাংশ অকৃষিজাত গ্রামীণ উৎস বলে দেখা যায়। এভাবে ১৯৫০ এর দশকের শ্রম-আধিক্যপূর্ণ তাইওয়ান ৭০ এর দশকে শ্রমিক সংকটের দেশে পরিণত হয় অর্থাৎ দেশটিতে পূর্ণ কর্মসংস্থান অর্জিত হয়। শহর ও গ্রামে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ফলে সকল মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়। ফলে ভূমি সংস্কারের দ্বারা ইতঃপূর্বে যে আয়-ন্যায়পরতা অর্জিত হয়েছিল, সে পরিস্থিতি আরো উন্নতি লাভ করে। পঞ্চাশের দশকে তাইওয়ানে যে ‘গিনি-কোইফিসিয়েন্ট’ (Gini coefficient) এর মাত্রা ছিল ০.৫৬, তা ৮০ এর দশকের প্রথম দিকে ০.৩১ এ নেমে আসে। যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় তাইওয়ান অধিক আয়-ন্যায়পরতা অর্জন করে। দেশের ২০% ধনাঢ্য ব্যক্তি ও দরিদ্রতম ২০% জনগোষ্ঠীর আয়ের হারের পার্থক্য ১৯৫৩ সালের ২০.৫ থেকে ১৯৮০ সালে ৪.২ এ নেমে আসে। এ হার সম্ভবত উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন।