সাহাল তাসতারী রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস অন্তরের জন্য কঠিন ?!!
নফস পছন্দ করে নেতৃত্ব, প্রশংসা ও প্রদর্শনী। ধাবিত হয় কর্মহীনতা ও অলস্যের প্রতি। আর তার জন্য সুসজ্জিত করা হয়েছে যাবতীয় লালসা ও বাসনাকে। এ জন্যই বলা হয়েছে, নিয়তকে খাঁটি বানানো কর্ম সম্পাদনকারীর জন্য কর্ম সম্পাদনের চেয়েও কঠিনতর।
কেউ কেউ বলেন,
إخلاص ساعة نجاة الأبد، ولكن الإخلاص عزيز .
‘এক মুহূর্তের
ইখলাস চিরকালের মুক্তি। কিন্তু ইখলাস বড় কঠিন’।
কেউ কেউ নিজের আত্মাকে সম্বোধন করে বলতেন,
اخلصي تتخلصي .
‘তুমি ইখলাস অর্জন করো তবে খালাস (মুক্তি) পেয়ে যাবে’।
আরো বলা হয়েছে,
طوبى لمن صحت له خطوة لم يرد بها إلا وجه الله .
‘ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যার একটি পদক্ষেপ সঠিক হয়েছে যেখানে সে একমাত্র আল্লাহকে খুশি করতে চেয়েছে’।
সুফিয়ান সাওরী রহ. বলেন,
قالت لي والدتي :
يا بُني لا تتعلم العلم إلا إذا نويت العمل به، وإلا فهو وبال عليك يوم القيامة .
‘আমার মা আমাকে বলতেন, হে আমার প্রাণপ্রিয় পুত্র, একমাত্র আমলের নিয়ত ছাড়া তুমি ইলম শিখ না, অন্যথায় তা
কিয়ামতের দিন তোমার জন্য বিপদের কারণ হবে’।
যুন্নূন মিসরী রহ. কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল বান্দা সম্পর্কে কখন জানা যাবে সে মুখলিসদের অন্তর্ভুক্ত ? তিনি উত্তর দেন,
إذا بذل المجهود في الطاعة ، وأحب سقوط المنزلة عند الناس .
‘যখন আল্লাহর আনুগত্যে সব চেষ্টা নিয়োগ করে এবং মানুষের কাছে মর্যাদা পড়ে যাওয়া পছন্দ করে।
ইয়াহয়া ইবন মু‘আয রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো বান্দা কখন মুখলিস হয় ? তিনি উত্তর দেন,
إذا صار خلقه كخلق الرضيع ، لا يبالي من مدحه أو ذمه .
‘যখন তার স্বভাব হয় দুগ্ধপোষ্য শিশুর মতো; কে প্রশংসা করল আর কে ভর্ৎসনা দিল তার পরোয়া করে না’।
প্রশংসা ও সুনামের ক্ষেত্রে নির্লোভ হওয়ার সহজ কৌশল হলো এ কথা হৃদয়ে বদ্ধমূল করা যে, কারো সুনাম বা বিশেষণই উপকার দেয় না এবং কারো ভর্ৎসনা বা নিন্দাই ক্ষতি করে না একমাত্র আল্লাহরটা ছাড়া। অতএব তার প্রশংসার ব্যাপারে নির্লোভ হও যার প্রশংসা তোমাকে সৌন্দর্য দান করে না। তেমনি তার নিন্দারও পরোয়া কর না যার নিন্দা বা সমালোচনা তোমার মানহানী ঘটায় না। তুমি আগ্রহী হও তাঁর প্রশংসায়, সকল সৌন্দর্য যার প্রশংসায় এবং সকল মানহানী যার নিন্দায়। আর এটা পারবে না তুমি যাবৎ না
সবর ও ইয়াকীন তথা আল্লাহর প্রতি ধৈর্য ও বিশ্বাস অর্জন কর। সম্বল হিসেবে তোমার কাছে সবর ও ইয়াকীন না থাকলে তোমার অবস্থা হবে ওই ব্যক্তির মতো যে সমতলে সফরের ইচ্ছা করে কোনো বাহন বা যান ছাড়া। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَٱصۡبِرۡ إِنَّ وَعۡدَ ٱللَّهِ حَقّٞۖ وَلَا يَسۡتَخِفَّنَّكَ ٱلَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ٦٠﴾ [
الروم :
٦٠ ]
‘অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে’। {
সূরা আর-রূম, আয়াত : ৬০}
আরেক আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَجَعَلۡنَا مِنۡهُمۡ أَئِمَّةٗ يَهۡدُونَ بِأَمۡرِنَا لَمَّا صَبَرُواْۖ وَكَانُواْ بَِٔايَٰتِنَا يُوقِنُونَ ٢٤﴾ [
السجدة :
٢٤ ]
‘আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিল, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত’। {
সূরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ২৪}