hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৭

প্রশ্ন-১০৪: রমাযান মাসে যারা রোযা রাখে এবং ঠিকমতো তারাবীহ নামায পড়ে তাদেরকে কি আল্লাহ নিস্পাপ করে দেন?

রমাযান মাসে যারা রোযা রাখে এবং ঠিকমতো তারাবীহ নামায পড়ে তাদেরকে নাকি আল্লাহ নিস্পাপ করে দেন! এটা কি সবার জন্য প্রযোজ্য।

উত্তর: বিভিন্ন হাদীসে এসেছে যে, অমুক আমল করলে আল্লাহ গোনাহ মাফ করে দেন। এটার অর্থ এই নয় যে সকল গোনাহ। কিছু গোনাহ আছে যা সহজে মাফের যোগ্য। আর কিছু গোনাহ আছে, অন্যান্য হাদীসে সুস্পষ্ট বলা হয়েছে, তাওবা ছাড়া এগুলো মাফ হয় না। কিছু গোনাহ রয়েছে তাওবা করলেও মাফ হবে না। তাওবার শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। তাহলে পাপ আমরা কয়েক ক্যাটাগরির করতে পারি। মহা কবীরা গোনাহ, সেগুলো তাওবার মাধ্যমে মাফ হয়। সাধারণ ছোটখাটো গোনাহগুলো বিনা তাওবায় নেক আমলের মাধ্যমে মাফ হয়। আর মানুষের অধিকার সম্পর্কিত যে পাপ রয়েছে- খুন করেছেন, মানুষের টাকা কেড়ে নিয়েছেন, লুট করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, যৌতুক নিয়েছেন, গীবত করেছেন, সম্মান নষ্ট করেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন- এই গোনাহগুলো শুধু আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাইলেই মাফ হয় না। ক্ষমা চাওয়া এবং ক্ষমা পাওয়ার একটা শর্ত হল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হক ফিরিয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে ক্ষমা নেয়া। কাজেই যখন আমরা বলি যে, রোযা রাখলে, তারাবীহ পড়লে অথবা কিয়ামুল লাইল করলে আল্লাহ গোনাহ মাফ করে দেন- এটার অর্থ সাধারণ মাফযোগ্য সগীরা গোনাহগুলো আল্লাহ মাফ করে দেন।