hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৮

প্রশ্ন-৭৫: ব্যাংকের সুদ হারাম। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগে কতটুকু জায়েয?

আমি জানি ব্যাংকের সুদ হারাম। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগে কতটুকু জায়েয? সাধারণ ব্যাংক আর ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে তফাৎ আসলে কতটুকু?

উত্তর: বিষয় হল, ইসলামে ব্যবসাকে হালাল করা হয়েছে। সুদ হারাম করা হয়েছে। সুদ আর ব্যবসার ভেতর পার্থক্য হল- সময় গড়ানোর সাথে সাথে টাকার বিনিময়ে টাকা বৃদ্ধি পাওয়া- এটা হল সুদ। আর পণ্যের বিনিময়ে টাকা বাড়লে-কমলে এটা সুদ হবে না, এটা ব্যবসা। ব্যবসার ভেতর জুলুম হতে পারে তবে এটা সুদ নয়। বর্তমানের সাধারণ ব্যাংকগুলো শতভাগ সুদের উপর প্রতিষ্ঠিত। যেটা নিঃসন্দেহে ইসলামে হারাম। অনেকেই বলেন, সুদ মানে চক্রবৃদ্ধির সুদ। এটা মূখর্তাসুলভ কথা। ইসলামে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলে কিছু নেই। যেমন, বেশি বেশি সুদ খেতে নিষেধ করা হয়েছে। সাধারণ সুদ খেতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন গোনাহের কথা বলা হয়েছে তোমরা দারিদ্রের ভয়ে সন্তানদের হত্যা করো না। এর অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনো ভয়ে সন্তান হত্যা করা যাবে। বা সন্তান ছাড়া আর কাউকে হত্যা করা যাবে- বিষয়টা এরকম নয়। বরং পাপের একটা বিশেষ পর্যায়কে হারাম করা হয়েছে। ঠিক তেমনি কখনো কখনো ছোট বড় সকল পাপকে হারাম করা হয়েছে। এজন্য সকল সুদই হারাম। তবে ইসলামি ব্যাংকিং যারা করেন, তারা গ্রাহককে টাকা না দিয়ে পণ্য দেয়ার চেষ্টা করেন। মূলনীতির দিক থেকে এটা শরীআতসম্মত। প্রয়োগের দিক থেকে অনেকেই ভুলভ্রান্তি করেন। তবে আশা করি কোনো গ্রাহক যদি এই ধরনের ব্যাংকের সাথে লেনদেন করেন, তিনি তার লেনদেনটা শরীআহ মতো রাখেন, ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা নেই।