hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৯৪

প্রশ্ন-২৯৩: “যে মুরীদ হওয়া ছাড়া মরবে তার মৃত্যু জাহিলি যুগের মতো’- এই হাদীস দ্বারা তো বোঝা যায় অবশ্যই মুরীদ হতে হবে।

উত্তর: এটা টাটকা মিথ্যা কথা। দাজ্জাল শয়তানদের বানানো কথা। মুরীদ না হয়ে মরা জাহিলি যুগের মরা- এই কথা যে বলে সে দাজ্জাল। মিথ্যাবাদী। কোনো হাদীসে এই কথা নেই। মুরীদ শব্দটাই কুরআন হাদীসে নেই। বাইআত করতে হয় রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে। পীরের যে বাইআত হতে হয় এটাই ছিল না। আমরা এখন প্রেসিডেন্টের কাছে বাইআত করি। রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শপথ নেয়, আমাদেরও শপথ হয়ে যায়। রাষ্ট্রপ্রধানের আনুগত্য লাগবে। রাষ্ট্রপ্রধানের বাইআতের হাদীসগুলোকে বিকৃত করে পীরের বাইআতের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পীর কথাটা ইসলামের না। সোহবত নেয়া ভালো। আলেম-উলামা, নেককার মানুষের সোহবতে যাওয়ার কথা কুরআন। হাদীসে আসছে। মুরীদ হওয়ার কথা কোথাও নেই। দুই নাম্বার হল, ইলম শিক্ষা ইবাদত। মাদরাসায় নাম লেখানো ইবাদত নয়। কেউ যদি নেককার মানুষের সোহবতে গিয়ে দীন শেখে, তার লাভ হবে। কিন্তু মুরীদ হল, বাইআত হল, আর কিছু শিখল না; তাহলে তার কিছুই হল না। বরং, অনেক সময় এটা শিরকে পরিণত হয়। মূলত একজন পীরের মুরীদ হওয়া, এটা বিদআত কাজ। সাহাবি, তাবেয়িদের যুগে কেউ একজনের সোহবতে যেতেন না। হাসান বসরি একজনের কাছে যেতেন না। সব সাহাবির কাছে যেতেন। আব্দুল কাদের জিলানিও অনেকের কাছে যেতেন। একজন ধরে পড়ে আছে, এটা কঠিন অন্যায়। ওই লোকটা তখন পীরকে নবী বানিয়ে ফেলে। মুরীদ মানে হল, যে ইচ্ছা করে, চায়। আর মুরাদ মানে যাকে চাওয়া হয়। আমাদের মুরাদ হলেন আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল। আমরা আল্লাহর ইবাদত করি নবীর তরীকায়। তো আপনি যখন এক পীরের মুরীদ হলেন, পীর আপনার মুরাদ হয়ে গেল। আপনি সব হারিয়ে ফেললেন।