hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৯১

প্রশ্ন-৩৯৫: নাস্তিক ব্যক্তির বই পড়ে সেখান থেকে কোনো জ্ঞান অর্জন করলে কোনো সমস্যা আছে কি না?

উত্তর: জ্ঞান তো সবখান থেকেই সংগ্রহ করা যায়। হিন্দু থেকে, কাফের থেকে, মুশরিক থেকে, ইমরুল কায়েস থেকে নেয়া যায়। তবে নাস্তিক ব্যক্তির নাস্তিকতা প্রচারমূলক বই না পড়া উচিত। আর নাস্তিকতাটা কী? মনে করেন আপনি রান্না করে খান। নাস্তিক এসে বলল, আপনি এই তরকারিটা ধুয়ে তারপর রান্না করেন। কারণ, বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে এই সবজিতে বিষ আছে। অথবা আপনি এই যে এই খড়ি দিয়ে রান্না করেন এতে পরিবশে দূষিত হয়। এটা দিয়ে রান্না করবেন না। তাহলে কী করা খাবার খাব কীভাবে! সে বলর, চলেন আমাদের বাড়িতে যাই। আপনি নাস্তিকের সাথে তার বাড়িতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন তার বাড়িও নেই, খাবারও নেই। সে জঙ্গলে থাকে আর কাঁচা মাংস খায়। নাস্তিকতা হল এমন। তারা পারে শুধু সমালোচনা করতে। তাদের কাছে কোনো সমাধান নেই। মানবতার জন্য কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। জঙ্গলে থাকা আর কাঁচা মাংস খাওয়ার মতো তাদের ব্যাপার। আমি রান্না করে খাই, সে জন্য তুমি সমালোচনা করছ। আর তুমি যে কাচা খাও! আল্লাহ তাআলা যত কিছু সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি প্রাণি, প্রতিটি দ্রব্য, প্রতিটি বস্তু- সবাই মুসলিম। তারা আল্লাহর শরীআত মানে। কোনো মানুষ খুন করলে আমরা বলি, ও পশুর মতো হয়ে গেছে। কিন্তু পশু কি কখনো খুন করে? করে না। পশুর নির্দিষ্ট শরীআত আছে। খাদ্যর জন্য, জীবন ধারণের প্রয়োজন ছাড়া সে অন্য কোনো পশুকে হত্যা করে না। এর বাইরে কোনো পশু প্রতিশোধ নিতে কিংবা বিনোদনের জন্য অন্য পশুকে খুন করেছে এটা কল্পনা করা যায় না। এটা অসম্ভব। তারা খাদ্য অপচয় করে না। শিকার করার পর সেটা না ফুরানো পর্যন্ত নতুন শিকার করে না। তারা সিন্ডিকেট করে না। খাদ্য সঞ্চয় করে না। এ জন্য কোটি বছর চলে যাবে, কিন্তু পশুদের জঙ্গলে কোনো পুলিশ দারগা। লাগবে না। একমাত্র সৃষ্টি মানুষ, যাকে আল্লাহ তাআলা শরীআত লঙ্ঘনের ক্ষমতা দিয়েছেন, বিবেক দিয়েছেন, এবং এর উপর তার বিচার হবে। এখন এর জন্য যদি কোনো ব্যবস্থা না থাকে তাহলে মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই এই ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে ধর্ম। ধর্মের অনুকরণে এখন কিছু আইনও তৈরি করা হয়েছে। এগুলোও ধর্ম থেকে আসছে। নাস্তিকরা ছোট ছোট কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে যুবকদের ভেতর আলোড়ন তোলে। তাদের খপ্পরে পড়ে যুবকরা লাফায়- তাই তো! ধর্মের তো অনেক সমস্যা! কিন্তু সমালোচনার বাইরে তারা কোনো সমধান দিতে পারে না। এই জন্য নাস্তিক লেখকদের নাস্তিকবাদী বই আপনারা পড়বেন না। কারণ, এর ভেতরে বিষ ঢোকানো থাকে।