hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫৪

প্রশ্ন-৫৫৬: রোযা রেখে ফরয নামায না পড়লে রোযা হবে কি না?

উত্তর: রোযা হবে। তবে সে পনেরো ঘণ্টার একটা ইবাদত করল, কিন্তু এর থেকে ভয়ঙ্কর পাপ করল। কারণ, নামাযের গুরুত্ব রোযার থেকে বেশি। বিষয়টা তাকে বোঝাতে হবে। কারণ যে মানুষ পনেরো ঘণ্টা কষ্ট করে, পাঁচ মিনিট কষ্ট করে না কেন! এটার কারণ হল, সে মনে করে রোযা একটা নেগেটিভ জিনিস, না খেয়ে সারাদিন পড়ে থাকব। নো প্রবলেম। কিন্তু ওযু করে মসজিদে যাওয়া, নামায পড়া বিরাট বোক মনে হয়। তার কিন্তু ঈমান আছে। নইলে তো রোযা রাখত না। দুনিয়ার সবচে' বড় কাজ হল দুটো। একটা হল খাওয়া। আরেকটা হল সংসার করা। খাওয়ার মজা। ততক্ষণ, খাবার মুখের ভেতর আছে যতক্ষণ। জিভের নিচে নামলে কিন্তু আর মজা থাকে না। গালের ভেতর খাবার কতক্ষণ থাকে? এই সামান্য সময়ের মজার জন্য। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জন করছি। নোংরার ভেতর গিয়ে বাজার করছি। এরপর বেগম সাহেবা আমাদের জন্য রান্না করেন। খাওয়ার সময়ও কিন্তু গা ঘামে। ঝাল একটু বেশি হয়ে যায়, লবণ একটু কম হয়ে যায়। এরপেরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার আছে। লোভ সামলাতে না পেরে বেশি খেয়ে ফেললে বদ হজম হয়, ঢেকুর ওঠে, বুক জ্বলে, বাথরুমের সমস্যা তো আছেই। তাহলে এই ষোলোআনার ভেতরে সাড়ে পনেরো আনা কষ্ট আর মজা আধা আনা। তার জন্য আমরা কত কষ্ট করি! আর নামাযের মজা হল যোলোআনা। ওযু করব, মজা। ভালো লাগে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াব, একটু অলসতা লাগে, শয়তান লাগিয়ে দেয়। নামাযের মজাটা তাকে বোঝান। গুরুত্ব বোঝান। আল্লাহ সাথে বান্দার প্রিয় সম্পর্কটা বোঝান।