hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮১

প্রশ্ন-২৭৯: সতীদাহ প্রথা কি হিন্দুধর্মে শুরু থেকেই ছিল? এটা কী জন্য করা হয়?

উত্তর: এটা হিন্দু বুযুর্গদের কাছে জিজ্ঞেস করবেন। আমি হিন্দুদের পুরোহিত নাকি? আমার কাছে একটা ছেলে এসেছিল, দেড় সপ্তাহ আগে। হিন্দু ছেলে। মুসলিম হবে। ও বলল যে, স্যার আমার বাবা মারা যান মাস ছয়েক আগে। বাবাকে যখন পোড়ানো। হয়, আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। লাশের নিচে খড়ি, উপরে খড়ি। যে বাবাকে কালকেও আদর করেছি, চুমু খেয়েছি, সেই বাবার লাশের উপর খড়ি চাপাচ্ছে। নিশ্চয় বাবার কষ্ট হচ্ছে। এরপর যখন আগুন লাগানো হল, লাশের গায়ে আগুন লাগলে হাতপা টেনে আসে। আমার বাবার পাটা লাফিয়ে উঠল। তখন সবাই বলতে লাগল- এই গোবিন্দ লাফাচ্ছে রে! বলে একটা খেটে নিয়ে বাড়ি মেরে পা'টা ভেঙে দিল। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। এরপর গোসাইদেরকে অনেক জিজ্ঞেস করেছি, তোমরা এই পোড়ানোটা কোথায় পেয়েছ? তোমাদের ধর্মের কোন জায়গায় আছে, দেখাও। দেখায় না। বলে যে, বাপ দাদা করে এসেছে তাই করতে হবে। এটা গেল শ্মশানে পোড়ানোর ব্যাপার। সতীদাহও একই ধরনের কথা। সতীদাহ প্রাচীন যুগ থেকেই আছে। মূলত হিন্দুধর্মের রেওয়াজগুলো আমাদের মতো নির্ধারিত কোনো ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে গড়ে ওঠে নি। তারা পরিবর্তন মেনে নেয়। এটা সকল ধর্মের জন্যই প্রযোজ্য। যেমন দুর্গাপূজা। হিন্দুদের সবচে' বড় পূজা। ৩০০ বছর আগেও দুর্গাপূজা নামে কিছু ছিল না। এটা বৃটিশ আমলে বাংলাদেশের এক জমিদার বানিয়েছিল। ব্যস, বৃটিশদের উৎসাহে এখন সারা ভারতবর্ষের হিন্দুদের প্রধান পূজা হয়ে গেছে। প্রাচীন যুগ থেকেই সতীদাহ আছে। কিন্তু কোন যুগ থেকে, এটা তো আমি অত ব্যাখ্যা করে পড়ি নি। এটা কেন হয়েছিল? কারণ, বউয়ের কোনো আলাদা অস্তিত্ব নেই। স্বামীর সাথে মরে দুজন এক সঙ্গে স্বর্গে থাকবে। এখনো ভারতের অনেকে বউ পোড়ানোর চেষ্টা করে।