hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২

প্রশ্ন-৩৮: নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. বই থেকে আমি জানতে পেরেছি নারী-পুরুষের নামাযে কোন পার্থক্য নেই- এটা কি সহীহ?

(এক নারীর প্রশ্ন) রাসূলের নামায নামের বই, যেটা লিখেছেন নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ., অনুবাদ করেছেন সিরাজুল ইসলাম, এই বই থেকে আমি জানতে পেরেছি নারী-পুরুষের নামাযের ভেতর কোন পার্থক্য নেই- এটা কি সহীহ? আমি পুরুষের মতো সেজদা করি দেখে একজন ১০০% নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে আমার নামায হচ্ছে না।

উত্তর: বড় দুঃখজনক, আমরা অন্য সব ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে জেনে বলি। বিজ্ঞান বিষয়ে, মেডিসিন বিষয়ে কথা বলতে জেনে বলি। না জানলে বলতে ভয় পাই যে, বলে আবার ঠকব কি না। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দীনের ব্যাপারে আমরা সবাই মূর্ষতার সাথেই কথা বলি। আপনি ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন যে, আপনি কোন বইয়ে, কোন কিতাবে পেয়েছেন যে ওরকম নামায পড়লে নামায হবে না! মাযহাবের হোক, বুযুর্গদের হোক একটা বই দেখান তো! সম্পূর্ণ না জেনে, মূখতার সাথে আমরা ফতোয়া দিতে থাকি। অথচ আল্লাহ পাক কুরআনে এটাকে মহাপাপ বলেছেন যে, “আমার নামে, দীনের নামে আন্দাজে কথা বলল না। বোন, জান্নাত যদি বাঙালিদের হাতে থাকত তাহলে কেউ আমরা জান্নাতে যেতে পারতাম না। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জান্নাতকে নিজের হাতে রেখেছেন। আর আপনি শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. এর কথা বলেছেন। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস এবং ফকীহও বটে। তিনি তাঁর ‘সিফাতু সালাতিন নাবি' গ্রন্থে নারী পুরুষের সালাতের পার্থক্য নেই মর্মে একটা বক্তব্য এনেছেন ইবরাহীম নাখয়ি থেকে। ইবরাহীম নাখয়ি তাবেয়ি ফকীহ। মূলত ইবরাহীম নাখয়ির এই বক্তব্যটা অন্যান্য গ্রন্থে একটু ভিন্নরকম রয়েছে। নারী-পুরুষের সালাতের পার্থক্য আছে, কি নেই এটা সাহাবিদের যুগ থেকেই বিভিন্ন মত রয়েছে। হাদীস শরীফে নারী পুরুষের সালাতের পার্থক্যে তেমন কিছু বলা হয় নি। একটু দুর্বল হাদীসে মেয়েদের সাজদা একটু গোটাসোটা হয়ে করতে বলা হয়েছে। এই হাদীসটা মুরসাল সহীহ। সাহাবির নাম নেই এজন্য দুর্বল। আর কোনো কোনো আরো দুর্বল হাদীসে মেয়েদের রুকু এবং বসার ক্ষেত্রে ভিন্নতার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অবশ্য ছেলেদের মতো উঁচু হয়ে বসতে মেয়েদের প্রকৃতিতেও একটু কষ্ট হয়। আর এই পার্থক্যগুলো সবই মুস্তাহাব পর্যায়ের। কোনো নারী যদি পুরুষের মতো সালাত আদায় করে, এটাতে কোনো সমস্যা নেই। আবার এই হাদীসগুলোর ভিত্তিতে রুকু সিজদা এবং বৈঠকে যদি একটু পার্থক্য করে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কারণ সাহাবিদের যুগ থেকেই বিভিন্ন সাহাবি এব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।