hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২৭

প্রশ্ন-২২৪: তোমরা ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কোরো না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে এই কথার অর্থ কী?

উত্তর: এই কথার অর্থ, রাসূলুল্লাহর (ﷺ) যেভাবে চলতেন ওইভাবে চলব। মধ্যমপন্থার মডেলও কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) । ধর্মের নামে বাড়াবড়ি কোরো না' অর্থ এই না যে, আমি নামায পড়ি না, রোযা রাখি না, দাড়ি রাখি না, পর্দা করি না। আমাকে কেউ এগুলো বলতে পারবে না। কেউ আমাকে দাড়ি রাখতে বলল আর আমি বলে দিলাম ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি কোরো না। এটা মনগড়া মধ্যপন্থা। মধ্যমপন্থী ছিলেন সাহাবাগণ। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, উম্মাতান ওসাতা। বাড়াবাড়ি কোরো এর অর্থ দুটো জিনিস। একটা হল, আল্লাহ কুরআনে যা বলেন নি, হাদীসে যা বলেন নি, ওটা দীন বানিয়ে ঝগড়া কোরো না। যেটা আমরা অধিকাংশ সময় করে থাকি। আরেকটা হল, দীনের ইবাদত- যেটা আল্লাহ ফরয করেন নি- সেটা নিজের উপর ফরয বানিয়ে নেয়া। যেমন: নির্দিষ্ট একটা টুপি পরব। ওটাই পরে থাকব। টুপির উপর পাগড়ি, পাগড়ির উপর রুমাল- এটা পরেই থাকব। আল্লাহর রাসূল করেন নি। এমন। তিনি কখনো টুপি পরেছেন, কখনো খালি মাথায় থেকেছেন, সহীহ মুসলিমের হাদীস, মসজিদে খালি মাথায় বসে থেকেছেন, কখনো পাগড়ি পরেছেন, কখনো পাগড়ি পরেন নি। জুব্বা একটা বানিয়েছি, এই স্টাইলের বাইরে আর পরব না। অথবা কোনো নফল ইবাদতকে ফরযের মতো গুরুত্ব দেয়া- এটাও বাড়াবাড়ি। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর পদ্ধতির বাইরে, কুরআন হাদীসে নেই, সেগুলো বিভিন্ন হুজুরের বক্তব্য শুনে ফরয বানিয়ে দেয়া; অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেটা মাঝে মাঝে করেছেন, মুস্তাহাব, সেটাকে জরুরি মনে করা- এই কাজগুলোই হল বাড়াবাড়ি, প্রান্তিকতা।