hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১৭

প্রশ্ন-৪২১: শাসক যদি কুফরি আইন দিয়ে দেশ চালায় স্বশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ন্যায়পরায়ণ শাসক বসাতে হবে?

ইবনে কাসীরসহ বেশকিছু কিতাবে উল্লেখ আছে যে, শাসক যদি কুফরি আইন দিয়ে দেশ চালায় স্বশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ন্যায়পরায়ণ শাসক বসাতে হবে। আমাদের শাসক কুফরি আইন দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। তাহলে এই শাসকের বিরুদ্ধে কেন আমরা সশস্ত্র জিহাদ করে ক্ষমতাচ্যুত করছি না?

উত্তর: দুটোর একটাও ঠিক না। আমাদের শাসক কুফরি আইন দিয়ে দেশ চালাচ্ছে, এটাও ঠিক না। তোমরা আলেমদের সাথে বসো, দেখো, সরকার কোন জায়গায় স্পষ্টভাবে কুরআন হাদীস অস্বীকার করেছে! দুই নাম্বার কথা হল, কুফরি দিয়ে রাষ্ট্র চালালেই স্বশস্ত্র জিহাদ বৈধ হবে এটাও ঠিক না। ইবনে কাসীর কী বলেছেন এটা নিয়ে আমার কথা না। আমার দেখার বিষয় হল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল কী বলেছেন! যখন শাসক সুস্পষ্ট কুফরিতে লিপ্ত হয়, কুরআন মানে না, কুরআন পড়তে বাধা দেয়, যে কুফরির ব্যাপারে আর কোনো ব্যাখ্যা থাকে না, তখন তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ। কিন্তু বৈধ হলেই করা যায় না। ভারতের শাসকের বিরুদ্ধে সেখানকার মুসলিমদের বিদ্রোহ। করা বৈধ। তাই বলে তারা কি বিদ্রোহ করে সবাই মারা যাবে? আমেরিকা, ইরোপের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করা বৈধ। বুঝতে হবে, বিদ্রোহ করা বৈধ হওয়া এক জিনিস আর কাজে নামা আরেক জিনিস। তুমি জিহাদ করো। কিন্তু জিহাদের ফলটা কী হবে? আরেকটা জিনিস বুঝবে। তুমি যে জিহাদ করতে চাচ্ছ, অস্ত্রগুলো কারা দেবে, বাবা? আমার জানা মতে অস্ত্র দেয় আমেরিকা। টাকা দেয় আমেরিকা। তুমি কি মনে কর, আমেরিকা ইসলামের স্বার্থে টাকা দেয়। যদি কোনো হুজুরের অস্ত্র বানানোর যোগ্যতা থাকে, আমাকে ধরব দিও। হুজুরের কাছ থেকে অস্ত্র নিয়ে কিছু করা যায় কি না দেখব। আবেগি হলে চলবে না, বাবারা! আগে দেখতে হবে জিহাদের বৈধতা। বৈধ হলেও করা যাবে কি না দেখতে হবে। এতে ইসলামের কতটুকু উপকার হয় দেখতে হবে।