hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১৬

প্রশ্ন-১১৩: তাযীমি বা সম্মানের সিজদা- এটা কুরআনে কি কোথাও আছে?

উত্তর: তাযীমি সিজদা রাসূলুল্লাহর (ﷺ) কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ কুরআনে নিষেধ করেছেন। তাযীমি সিজদা আগের যামানার উম্মতের ভেতর কিছু কিছু ছিল। আর তাযীমি সিজদাটা কী? মানুষ পীর, ওলিদেরকে যে সিজদা দেয়- এটা শিরক। এটা তাযীমি সিজদা না। এটা প্রভুত্বের সিজদা। যে ব্যক্তি মাকে সিজদা করছে না, বাবাকে করছে না, পীর সাহেবকে করছে- এটা পুরোটাই শিরক। এটা ইবাদতের সিজদা। ওই পীর সাহেবের ভেতর রুবুবিয়্যাত বা আল্লাহ তাআলার সাথে তার কোনো সম্পর্ক আছে মনে করেই ব্যক্তি বা কবরকে সিজদা করছে। পূর্ববর্তী উম্মতদের ভেতরে, যারা বাইবেল পড়বেন তারা ব্যাপকভাবে পাবেন, কুরআনেও আছে, ইউসুফ আ.এর বাবা-মা এবং ভাইয়েরা তাঁকে সম্মানের সিজদা করেন। এখানে কোনো রুবুবিয়্যাত উলুহিয়্যাত না, ভাইকে তারা সিজদা করেছে, ছেলেকে করেছেন- এটা সম্মানের সিজদা। আল্লাহ কুরআনে এটা নিষেধ করেছেন।

وأن المساجد لله فلا تدعوا مع الله أحدا

কাজেই সিজদাটা, সিজদার কর্মটা, সিজদার স্থানটা আল্লাহর। আর কাউকে শরিক করো না। প্রায় ১৭/১৮ জন সাহাবি থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়, মুতাওয়াতির হাদীসে এসেছে, সাহাবিরা যখন সিরিয়ায় গেলন, দেখলেন, সিরিয়ার খ্রিস্টানেরা তাদের পাদ্রিদের সিজদা করছে। সম্মানের সিজদা। তাঁরা এসে রাসূল (ﷺ) কে সিজদা করতে গেলেন। তিনি বললেন, না, খবরদার! কোনো মাখলুককে সিজদা করা যাবে না! তোমরা আমাকে সিজদা কোরো না। তাহলে রাসূলুল্লাহ (ছ) কে যদি সিজদা করা না যায়, তাহলে পীর বা ওলিকে কীভাবে সিজদা করা যায়। এটা সত্যিই দুঃখজনক।