hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬৭

প্রশ্ন-৩৬৯: মনের মধ্যে শুধু সংশয়। মনে হয়, দীন-ধর্ম সব মিথ্যা। আসলেই কি আল্লাহ আছে? তার অলৌকিক প্রমাণ কী?

আমি মুসলিম পরিবারের সন্তান। নামায পড়ার চেষ্টা করি। আমার মনের মধ্যে শুধু সংশয় তৈরি হয়। মনে হয়, দীন-ধর্ম সব মিথ্যা। আমার মনের ভেতর নানা জিজ্ঞাসা। আসলেই কি আল্লাহ আছে? তার অলৌকিক প্রমাণ কী?

উত্তর: মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। সবাই বলে মিথ্যে বাজে বকিস নে আর খবরদার!

এমন হয়ে গেল না ব্যাপারটা! আল্লাহর অলৌকিক প্রমাণের দরকার কি! লৌকিক প্রমাণই তো আছে। মনে করেন, এখানে একটা গাড়ি এসেছে। খুব দামি গাড়ি। জীবনে কোনো দিন দেখেন নি। মালিক কাছে গেলে গাড়ির দরজা খুলে যাচ্ছে। মালিক ছাড়া অন্য কেউ কাছে গেলে সাইরেন বাজছে। সিটে বসার সাথে সাথে স্টার্ট নিচ্ছে। এত সুন্দর গাড়ি! আপনি বললেন, ভাই, এটা কোন কোম্পানির গাড়ি? ড্রাইভার বলল, না ভাই, এটা কোনো কোম্পানির গাড়ি না। যমুনা সেতুর পাশ দিয়ে ট্রাক যাচ্ছিল। আরেকটা ট্রাকে ধাক্কা লেগে ট্রাকদুটো যমুনার পানিতে পড়ে গিয়েছিল। হঠাৎ ওখান থেকে এই গাড়িটা বেরিয়ে এসেছে। এই গল্প কি আপনি বিশ্বাস করবেন? করবেন না। বলবেন, না না, এত সুন্দর গাড়ি এমনি এমনি হয় না। নিশ্চয় কোনো কোম্পানির গাড়ি। তো এই পৃথিবীটাও তেমন। এত নিখুঁত এর পরিচালনা! এই বিশ্ব ক্ৰমেক্রমে বাড়ছে। এই বাড়তে থাকা প্রমাণ করে এর শুরু আছে। আর যার শুরু আছে তার একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। এই বিশ্বের যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, প্রতিটি পরতে পরতে যে নিখুঁত ব্যবস্থাপনা- এটা প্রমাণ করে, এটা এমনি এমনি হয় নি। আপনার শরীরের পার্টসগুলো কখন কাজ করবে, হার্ট কখন কাজ করবে, হার্টে সমস্যা। হলে কীভাবে অন্যদিক থেকে রক্ত আসবে, খাবার বেশি খেলে হার্ট কীভাবে কাজ করবে- আমাদের শরীরের এই যে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, এটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে, এর পেছনে কোনো একজন বৈজ্ঞানিক আছে। কেউ এটাকে বানিয়েছে। তবে হ্যা, আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এখন দেখতে না পারলেই যদি না মানা যায়, তাহলে তো আমরা কতকিছুই দেখতে পাই না। গাড়ির কোম্পানিকে আমরা দেখি নি। কিন্তু ঠিকই বিশ্বাস করেছি। পুরো বিশ্বের দিকে তাকানো লাগবে না, শুধু আমাদের শরীরের দিকে তাকান, ডাক্তারি পড়ে দেখেন, আমাদের শরীর এমনভাবে বানানো- এটা এক অকল্পনীয় বিজ্ঞান। এক লক্ষ ডাক্তার এক হয়েও এমন একটা শরীর বানাতে পারবে। যা মানুষের দেহের ভেতরে আছে। আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিক্স যত বড়ই হোক, মাঝে মাঝে মুছতে হয়। ডিলিট করতে হয়। ব্রেনে কোনো ডিলিট লাগে না। অটো ডিলিট ব্যবস্থা আছে। আবার অটো রিভাইব করা যায়। এগুলো সবই লৌকিক প্রমাণ। জাগতিক প্রমাণ। নাস্তিকরা আস্তিকদের থেকে অনেক বড় পাগল। কারণ, আস্তিকের কাছে ‘দেখি না’ ছাড়া সব প্রমাণ আছে। আর নাস্তিকের কাছে ‘দেখি না ছাড়া আর কোনো প্রমাণ নেই। একজন আস্তিক বিশ্বাস করে, এত সুন্দর গাড়ি কোম্পানি ছাড়া হতে পারে না। আর নাস্তিক মনে করে, যেহেতু রাস্তার পাশে পড়ে রয়েছে, কোনো কোম্পানির নাম গায়ে লেখা নেই- এটা আসলে যমুনার পানির ভেতর থেকেই বের হয়েছে। এগুলো সবই লৌকিক প্রমাণ। আর অলৌকিক প্রমাণ আপনি নিজেই অনুভব করবেন। মানুষের আত্মা নিজেই অনুভব করে আল্লাহ তার সাথে আছেন। আপনি দুআ করছেন, আল্লাহ কবুল করছেন। আপনি দেখতে পাচ্ছেন, আল্লাহ আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় হল, দুনিয়াতেও দৃশ্যমান কিছু অলৌকিক ব্যাপার আছে। সবচে' বড় অলৌকিক প্রমাণ হল মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা) । অন্য কোনো কিছুর দরকার নেই। মাত্র তেইশ বছরের জীবনে তিনি বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছেন। দুনিয়াতে এমন আর কেউ নেই। তেইশ’শ বছরেও বিশ্ব পাল্টানো যায় না। এইসব কিছুর দিকে তাকালে বোঝা যায়, আসলেই আল্লাহ আছেন।