hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২৪

প্রশ্ন-৪২৮: মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা যদি মৃতের উদ্দেশে দান বা কুরআন খতম করে, সোয়াব মৃতের আমলনামায় যোগ হয়?

মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা যদি মৃতের উদ্দেশে দান বা কুরআন খতম করে, এর সোয়াব মৃতের আমলনামায় যোগ হয় কি না? আমরা তো শুনি যে মারা গেলে মানুষের আমল বন্ধ হয়ে যায়।

উত্তর: মারা যাওয়ার সাথে সাথে ওই ব্যক্তির আমল বন্ধ হয়ে যায়, যে মারা গেছে। কিন্তু তার উত্তরাধিকাররা যদি তিন প্রকার কাজ করে তাহলে তিনি কবরে সোয়াব পেতে পারেন। একটা হল দুআ- আল্লাহ, আমার আব্বার মাফ করে দাও। রাব্বিরহামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগীরা। এই দুআ কবুল হলে সঙ্গে সঙ্গে তার আমলনামায় একটা সোয়াব যোগ হবে। আমরা মনে করি, দুআ মানে হুজুর ডেকে আনুষ্ঠানিক দুআ। বিষয় এমন না। আপনি মুখে দুআ করবেন, আরবি না পারলে বাংলায় করবেন আল্লাহর, আমার আব্বার মাফ করো, আমার আম্মার মাফ করো, আমার দাদার মাফ করো, আমার দাদির মাফ করো। দুআ কবুল হলেই তাদের। আমালনামায় সোয়াব লেখা হবে। আরেকটা হল দান। আপনি একটাকা, দুটাকা, দশটাকা দান করেন গরিবদেরকে, অথবা সদাকায়ে জারিয়া করেন, এক কাঠা দু কাঠা জমি অথবা কোনো দীনি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজে দান করেন। এবং হজ্জ উমরাহ। মৃত পিতামাতার পক্ষ থেকে হজ্জ উমরাহ করার বিধান আছে। তারা সোয়াব পাবেন। হাদীসের আলোকে বোঝা যায়, তাদের পক্ষ থেকে কুরবানিও করা যায়। তারা সোয়াব পাবেন। মৃতের উদ্দেশে কুরআন খতম কালিমা খতম করলে তিনি সোয়াব পাবেন এটা হাদীসে নেই। মানে বখশে দেয়ার নিয়তে পড়লে নেই। এমনিতে সন্তান যা আমল করবে তার সোয়াব বাবা-মা পাবেন। সন্তানের সকল আমলের সোয়াব আব্বা আম্মা পাবেন। কারণ, আব্বা আম্মার অসিলায় সন্তানের জন্ম এবং প্রতিপালন। কিন্তু আমরা স্পেশালি আব্বার জন্য কুরআন খতম করলাম, হাদীসে এরকম নেই। সুন্নাতে নেই। সাহাবি এবং তাবেয়িদের যুগে এমন ছিল না। আলেমনগণ বলেছেন, কুরআন খতম করলেও ইনশাআল্লাহ সোয়াব পাবেন।