hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১০

প্রশ্ন-৪১৪: সেভো বা হাতাঅলা গেঞ্জি ব্যবহারের সুন্নাত তরীকা কী?

উত্তর: আসলে গেঞ্জি তো সুন্নাত না। আপনারা জানেন, আমি একটু বেশি কথা বলি। আমাদের বড় জ্বালা আছে। আমরা পোশাকের সুন্নাত খুঁজি, জিকিরের সুন্নাত খুঁজি না। মীলাদ সুন্নাত লাগবে না, জিকির সুন্নাত লাগবে না, নামায সুন্নাত লাগবে না। তবে পোশাক-আশাক, চুল-টুপি-দাড়ি হতে হবে নবীর তরীকায়। অর্থাৎ নবীজি আমাদের চুল দাড়ি আর টুপি পরানো শেখাতে এসেছিলেন। আর ইবাদত বন্দেগি হুজুরদের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। যদি বলা হয়, নবীজি এভাবে জিকির করতে বলেছেন, আপনারা বলবেন, না, আমাদের হুজুর অন্যভাবে করতে বলেছেন। এটা বিদআতে হাসানা। আর পোশাকের ক্ষেত্রে নবীজির পাগড়ি কয় হাত লম্বা ছিল, এটা নিয়ে আমরা ব্যস্ত। পোশাকের সুন্নাত দেখিয়ে অনেক ভণ্ড শিরকে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের বুঝতে হবে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইবাদতের দুটো দিক আছে। একটা ইবাদত আরেকটা মুআমালাত। ইবাদতের ক্ষেত্রে সুন্নাতের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুন্নাতের বাইরে যদি ইবাদত করা হয় এতে গোনাহ হবে, বিদআত হবে, নবীজির সুন্নাতকে অবহেলা করা হবে। কারণ, সোয়াবের উৎস হল সুন্নাত। আর ইবাদত করা হয় সোয়াবের জন্য। সুন্নাতের বাইরে কোনো সোয়াব নেই। আর মুআমালাতের ক্ষেত্রে সবসময় সোয়াব উদ্দেশ্য না। যেমন আমরা ভাত খাই। ভাত খাওয়া সুন্নাত না। আমরা ভাত সোয়াবের জন্য খাই না। খেজুর খেয়ে থাকতে পারি না তাই পেটের দায়ে খাই। এ জন্য মুআমালাতের ক্ষেত্রে সুন্নাতের বাইরে যাওয়া যাবে, যদি হারাম না হয়। গেঞ্জি বা সেভো গেঞ্জি ভালো পোশাক না। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নামাযের সময় কাঁধ। ঢাকতে হবে। এজন্য হাতাঅলা গেঞ্জি পরা উচিত। তবে সেন্ডো গেঞ্জি নাজাযেজ নয়। সেন্ডো গেঞ্জি পরে নামায পড়লে গোনাহ হবে। আর গেঞ্জি পরতে পারেন, খালি গায়ে থাকতে পারেন, জায়েয আছে, দোষ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে গেঞ্জি ছিল না, তবে ছোট কামিস ছিল।