hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০০

প্রশ্ন-১৯৭: কবীরা গোনাহ করলে সিয়াম নষ্ট হয় কি না জানাবেন।

উত্তর: সিয়ামের দুটো দিক রয়েছে। একটা হল একদম নষ্ট হয়ে যাওয়া। আরেকটা হল, ছওয়াব, বরকত, উপকারিতা, আল্লাহর সন্তুষ্টি নষ্ট হয়ে যাওয়া। সাধারণভাবে আমরা জানি, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং দাম্পত্য সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম। এই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে সিয়াম নষ্ট করে। তবে সিয়াম অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ তাআলা যা হালাল করেছেন এগুলো আমরা বর্জন করব, আর আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন সেগুলোর ভেতর পুরোপুরি ডুবে যাব। সিয়াম অর্থ আমরা আল্লাহর নিষিদ্ধ হারামগুলো পুরোপুরি বর্জন করব এবং যেগুলো হালাল সেগুলো আমরা কিছু সময়ের জন্য বর্জনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করব। যেমন শূকরের মাংস হারাম, সুদ হারাম, ঘুষ হারাম, আর আমার হালাল টাকা দিয়ে কেনা ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা পানীয় অথবা খাদ্য এগুলো হালাল। আমি সিয়াম পালনরত অবস্থায় হালাল খাদ্য গ্রহণ করলাম না। কারণ, আল্লাহ তাআলা এতে অসম্ভষ্ট হবেন, গোনাহ হবে, সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে। অথচ আমি হারামগুলো ভক্ষণ করলাম, সুদ খেলাম, ঘুষ খেলাম; এটার নাম সিয়াম নয়। এ জন্য সিয়াম অবস্থায় কবিরা গোনাহ করলে সিয়ামের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়। তবে ওই সিয়াম কাজা করার প্রয়োজন হয় না।

সিয়ামের বরকত, ছওয়াব, সিয়ামের উদ্দেশ্য- এগুলো ব্যাহত হয়। আর এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন

من لم يدع قول الزور والعمل به، فليس له حاجة في أن يدع طعامه وشرابه

যে ব্যক্তি অন্যায় কর্ম, অন্যায় কথা পরিত্যাগ করতে না পারল, ওই ব্যক্তি শুধু শুধু পানাহার বর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে তার কোনো উপকার হল না। (বুখারি-১৯০৩; আবু দাউদ-২৩৬২; তিরমিযি-৭০৭) কাজেই সিয়াম আমরা পালন করব, যে বাহ্যিক বিষয়গুলো সিয়াম নষ্ট করে, সেগুলো তো বর্জন করবই, এর আগে আল্লাহ যেগুলো স্থায়ীভাবে হারাম করেছেন সেগুলো আমাদের বর্জন করতে হবে।