hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬২

প্রশ্ন-৩৬৪: কুরআনে আছে, আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দরুদ পাঠ করে। ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না?

উত্তর: কোন দরুদ পাঠ করে! এটা কুরআনে আসলে নেই। কুরআনে আছে:

إن الله وملايكته يصون على النبي

আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা নবীর উপর দরুদ পড়ে। শুধু তাই না, আরো মজার ব্যাপার হল, কুরআনে আছে, আল্লাহ এবং ফেরেশতারা আমাদের উপরও দরুদ পড়ে। এটা কোন দরুদ! আল্লাহ পাক বলেছেন:

هو الذي يصلي عليگم وملائكة تت

(সূরা আহযাব, আয়াত-৫৬)

এই সূরা আহযাবের ভেতর আল্লাহ আগে আমাদের উপর দরুদ পড়েছেন, তারপর নবীর উপর পড়েছেন। একই কথা। দুটো আয়াতের অর্থই এক। আল্লাহ এবং ফেরেশতারা আগে আমাদের উপর দরুদ পড়লেন, তারপর নবীর উপর। আসলে আল্লাহর সালাত মানে দরুদ পড়া নয়। রহমত করা। ভাষা না বুঝে আমরা দরুদ পড়া বলি। সালাত মানে হল রহমত অথবা প্রার্থনা। আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত দেয়া, বান্দার পক্ষ থেকে রহমত চাওয়া; এর নাম হল সালাত। তাহলে আল্লাহ যে বললেন:

هو الذي يصلي عليگم وقلايته

আল্লাহ এবং ফেরেশতারা তোমাদের উপর সালাত পাঠান। মানে আল্লাহ রহমত নাযিল করেন, ফেরেশতারা রহমতের জন্য দুআ করেন। (সূরা আহযাব, আয়াত-৪৩)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

إن الله وميته يصون على مايبي الوف

এর মানে হল, কাতারের ডানে যারা দাঁড়াবে আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতারা তাদের জন্য দরুদ পড়বেন। অর্থাৎ আল্লাহ রহমত নাজিল করবেন, ফেরেশতারা রহমতের দুআ করবেন। আমরা সালাত পড়ি মানে, আমরা বলি যে, আল্লাহ, তোমার নবীর উপর রহমত নাজিল করো, তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দাও। কাজেই আল্লাহ এবং ফেরশতারা দরুদ পড়ে- এটা হল জাহেলদের তরজমা, বোঝে না। অথবা বুঝেও আমাদেরকে বিভ্রান্ত করে। (সুনান আবু দাউদ-৬৭৬; ইবন মাযাহ-১০০৫)