hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪০

প্রশ্ন-৩৪০: নামাযের ভেতর অন্য নামাযির সামনে দিয়ে হাঁটা, শব্দ করে আমীন বলা, তারাবীহর দুআ এবং মুনাজাত না করা কেমন?

পিস টিভিতে সৌদি আরবের তারাবীহ নামায দেখায়। দেখা যায়, নামাযের ভেতর মুসল্লিরা অন্য নামাযির সামনে দিয়ে হাঁটছে। সবাই শব্দ করে আমীন বলে। তারাবীহর দুআ এবং মুনাজাত করে না। তাদের এই কাজগুলো কেমন?

উত্তর: খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। হালাল-হারাম, জায়েয-নাজায়েয সব একসাথে হয়েছে। এবং এটাই প্রমাণ করে দেখাদেখি কিছু হয় না। যেমন নামাযের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া হারাম। অনেক হাদীস আছে। মক্কায় হাঁটে। মক্কার হাঁটা দুই রকমের। মক্কার একটা হল মাতাফ। তাওয়াফের জায়গায় তাওয়াফ করা যায়। কারণ, তাওয়াফও নামায। বাকি মুসল্লিদের সামনে হাঁটা মক্কায়ও জায়েয নয়। দুটো কারণে লোকে হাঁটে। একটা হল, না জেনে হাঁটে। মক্কায় যারা যায়, ৯০% মানুষই কিছু জানে। আলেম না। তারা অন্যের দেখাদেখি হাঁটে। একজনকে হাঁটতে দেখল, ধরে নিল মক্কায় বোধহয় নামাযের সামনে দিয়ে হাঁটা জায়েয। হজ্জের সময় অনেক দেশের মেয়েরা আসে। তারা পুরুষের সামনে কাপড় খুলে ওযু করে। তাই দেখে অন্য মেয়েরা ভাবে, মক্কায় বোধহয় পর্দা লাগে না। তাই যারা হাঁটে, তাদের অধিকাংশই না জেনে হাঁটে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হাঁটে। বড় জামাআতে হাঁটতে বাধ্য হলে নামায অ্যাভয়েড করে এমনিতে চলার চেষ্টা করবে। আর আমীন জোরে বলার ব্যাপারে তো সহীহ হাদীস আছে। অনেক সহীহ হাদীস আছে। আস্তে বলারও হাদীস আছে। যদিও মুহাদ্দিসগণ শায’ বলেছেন। তবে সনদ সহীহ। এই মসজিদে এক হাজার মুসল্লির ভেতর যদি পঞ্চাশ জন জোরে আমীন বলে, আর নয়শ পঞ্চাশ জন যদি আস্তে বলে, শোনা যাবে কোনটা? জোরেটাই শোনা যাবে। মনে হবে সবাই যেন জোরে আমীন। বলছে। এই জন্য মক্কায়ও অমন। অনেকেই জোরে বলে। তবে সাধারণভাবে এটা। মক্কার মাসআলা। হাম্বলি, শাফি, মালেকি মাযহাবের লোকেরা আমীন জোরে বলে।