hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৪

প্রশ্ন-৬০: প্যারালাইসড অবস্থায় নামাযের বিধান কী?

আমার দাদি ছয়মাস ধরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছেন। কখনো তার সংজ্ঞা ফিরে আসে কখনো আসে না। কখন আসে কখন যায় সেটাও আমরা অনেক সময় টের পাই না। তিনি প্যারালাইসডও বটে। এই অবস্থায় তার নামাযের বিধান কী?

উত্তর: সালাতের সম্পর্ক চেতনার সাথে। হুশের সাথে। মানুষ যখন বেহুশ হয়ে যায়, চেতনা লুপ্ত হয়, তার সালাত থাকে না। অনেকেরই বৃদ্ধ বয়সে এমন হয়, আমরা উকণ্ঠিৎ হই- তার সালাতের কী হবে! অথবা কাফফারা দেয়ার চেষ্টা করি। বিষয় হল, মানুষের যখন চেতনা থাকে কিন্তু অক্ষম, তখন চোখের ইশারায়ও সালাত আদায় করতে পারেন। কিন্তু যখন উনি অচেতন হয়ে যান তার আর সালাত ফরযই থাকে না। কাজেই আপনার দাদির এখন আর সালাত ফরয নেই। যদি কখনো হুশ হয়, বুঝতে পারেন, সালাতের কথা বলবেন। যদি অনুভব করতে পারেন, তাহলে উনি পড়বেন। আপনি তায়াম্মুম করে দেবেন। না হলে তার কোনো সালাত ফরয নয়। আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। তার সেবা করুন। তার শেষ জীবন যেন সুন্দর হয় দুআ করুন। আমরাও দুআ করি।

প্রশ্ন-৬১: রাসূল (ﷺ) এর দুআগুলো একত্রিত করে সূর্যাস্তের সময় এবং সূর্যোদয়ের সময় পড়ার আমলটা ঠিক আছে কি না?

রিয়াযুস সালেহীনের মধ্যে দুআর একটা অধ্যায় আছে। রাসূল (ﷺ) তাঁর সাহাবিদেরকে বিভিন্ন সময়ে দুআগুলো পড়ার তাগিদ দিতেন। ওই দুআগুলো একত্রিত করে সূর্যাস্তের সময় এবং সূর্যোদয়ের সময় আমি পড়ি। এই আমলটা ঠিক আছে কি না?

উত্তর: জি, সকাল-সন্ধ্যায় পড়ার জন্য রাসূল (ﷺ) অনেক দুআ শিখিয়েছেন। এছাড়াও সাধারণ অনেক দুআ আছে। আপনি সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের সময়ে পড়ার কথা বলেছেন। ফজরের সালাতের পর থেকে বেলা ওঠা পর্যন্ত বসে তাসবীহ, তাহলীল, দুআ করা এবং বেলা ওঠার পর দুই বা চার রাকআত ইশরাক বা সালাতুত দোহা পড়া গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাসূল (ﷺ) বলেছেন এতে উমরাহর ছওয়াব হয়। আপনি যদি এই সময় দুআ করেন সেটা ভালো। সূর্যাস্তের আগে মাসনুন কিছু যিকির আছে এগুলো পড়বেন। এছাড়া সাজদায়, অন্যান্য সময় সুন্নাত দুআগুলো করতে পারেন।