hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩৬

প্রশ্ন-২৩৩: ইয়াযিদকে ঘৃণা করা আমাদের উচিত কি না জানতে চাই।

উত্তর: ইয়াযিদ নিঃসন্দেহে মহা মহা কয়েকটা পাপ করেছে। কাজেই ইয়াযিদকে ঘৃণা করা খুবই স্বাভাবিক এবং তাকে ভালোবাসতে হবে এমন বড় কোনো কাজ তিনি করেন নি। তবে আমাদের রাজনীতির কালচার হল, মানুষের কোনো ভালোই স্বীকার করি। অমুক লোক মুক্তিযোদ্ধা ছিল, কিন্তু আমার দলের না, কাজেই সে রাজাকার, পাকিস্তানের দালাল। তার খারাপটা খারাপ, ভালোটা ভালো; তা না, ভালোটাও খারাপ। ইয়াযিদ সাহাবি তাবেয়িদের যুগের মানুষ। বাহ্যত তিনি নামাযি ছিলেন, ভালো মানুষ ছিলেন, এটাই স্বাভাবিক। মনে করেন, আমাদের দেশে একটা লোককে ইমাম নিয়োগ দেয়া হবে, যে কিনা নামায পড়ে না, মদ খায়; এটা সম্ভব না। সে আওআমী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী যা-ই করুক, অন্তত বাহ্যিক ভালো কিছু গুণ তার থাকতে হবে। তা না হলে তার পিছনে কেউ নামায পড়বে না। তো সাহাবিদের যুগটাও এমন ছিল। ক্ষমতায় যারাই থাক, নামায-রোযা ইত্যাদি কাজগুলো স্বাভাবিক ছিল। তবে সে যুগের ভালো মুসলিম তখনই আমার কাছে ভালো মুসলিম হবে, যতক্ষণ সে আমার পক্ষে থাকবে। আর আমার বিপক্ষে গেলে সে নবীর নাতি হোক অন্য কেউ হোক তাকে কেটেকুটে সাফ করতে হবে। ইয়াযিদ ভয়ঙ্কর তিনটে মহাপাপ করেছেন। একটা হল, ইমাম হুসাইন রা.এর শাহাদাত তার যুগে ঘটেছে। যদিও ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি হত্যার নির্দেশ দেন নি। কিন্তু হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এতে তিনি খুশি হয়েছেন, হত্যাকারীদের কোনো শাস্তি তিনি দেন নি। দুই নাম্বার, মদিনায় তার বাহিনী গণহত্যা করেছে। তিন নাম্বার, তার বাহিনী মক্কায় গিয়ে কাবা ঘরে কামান দেগেছে। যে ক্ষমতার জন্য তিনি এতকিছু করেছেন, ভালো করে মনে রাখেন, রাজনীতিবিদরা তো এখানে আসে না; তবু আপনারা মনে রাখেন, ক্ষমতার জন্য এতকিছু করলেন, অথচ মজার ব্যাপার, ইয়াযিদের বংশের কেউ কখনো ক্ষমতায় যায় নি। উমাইয়া বংশে ইয়াযিদের ছেলে মুআবিয়া ছয় মাস রাজত্ব করেছে। এরপরেই সব শেষ।