hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮১

প্রশ্ন-১৭৮: চাঁদ দেখার সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য জানতে চাই।

উত্তর: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন

صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته

তোমরা চাদ দেখলে সিয়াম পালন শুরু করো এবং চাঁদ দেখলে ঈদ আদায় করো। এই যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশনা, এটা কোনো একক বা ব্যক্তিগত নির্দেশনা নয়। (২৩ সহীহ বুখারি-১৯০৯; মুসলিম-১০৮১)

ইসলামের সামাজিক এবং সামষ্টিক ইবাদতগুলো রাষ্ট্রীয় এবং সমাজ নিয়ন্ত্রিত। কাজেই একজন চাঁদ দেখবে আর বাকি সবাই রোযা রাখবে অথবা যে যেভাবে চায় রোযা রাখবে- এই ব্যবস্থা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেন নি। অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) বলেছেন

الفطر يوم يفطر الناس، والأضحى يوم يضحي الناس

যেদিন সকল মানুষ ঈদুল ফিতর আদায় করবে সেদিনই ঈদুল ফিতর আদায় করতে হবে। যেদিন সকল মানুষ ঈদুল আযহা আদায় করবে সে দিনই ঈদুল আযহা আদায় করতে হবে, অথবা

يوم الأخر يوم ينكر الإمام

রাষ্ট্রপ্রধান যেদিন ঈদুল আযহা আদায় করবেন, সেদিন সবাইকে ঈদুল আযহা আদায় করতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্র এবং সমাজকে নিয়ে এই উত্সব এবং এই ইবাদতগুলো পালন করতে হবে। এ জন্য চাঁদ দেখার পর তার সাক্ষ্য দেয়া এবং সাক্ষ্য গ্রহণ করার বিষয়টি ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে নারী পুরুষ সাক্ষ্য দিতে পারেন। এক্ষেত্রে যারা চাঁদ দেখবেন তারা চাঁদ দেখা কমিটি অথবা মেজিস্ট্রেট অথবা কাজি, আঞ্চলিক কাজি বা বিচারক- এদের কাছে গিয়ে সাক্ষ্য দেবেন। এবং এই সাক্ষ্য যদি সরকার গ্রহণ করেন, সরকারি ঘোষণার পরে সে দেশের মুসলিমেরা সিয়াম পালন করবেন। এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে সিয়াম পালন করা অথবা ব্যক্তিগতভাবে কেউ কাউকে বলেছে যে, আমি চাঁদ দেখেছি, তার কথার ভিত্তিতে সিয়াম পালন করা- চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় থেকে চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হত রাষ্ট্রীয়ভাবে।