hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩৯

প্রশ্ন-২৩৬: কুরআন খতমের জন্য পারা ভাগ করে; লক্ষ লক্ষ কালিমা পড়া হয়। এগুলো কি আমলনামায় যোগ হবে?

গ্রামে কেউ মারা গেলে কুরআন খতমের জন্য পারা ভাগ করে দেয়া হয়। লক্ষ লক্ষ কালিমা পড়া হয়। এগুলো কি তার আমলনামায় যোগ হবে?

উত্তর: মৃতদের জন্য দান করা সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃতদের জন্য দুটো নিয়মিত কাজের কথা বলেছেন। কুরআনে একটা আছে। আরেকটা আছে হাদীসে। প্রথম হল, আপনি সবসময় তাদের জন্য দুআ করবেন। দুআটা কবুল হলে সঙ্গে সঙ্গে তার আমলনামায় একটি নেকি যোগ হবে। আমরা এটা বুঝি না। মনে করি দুআ মানেই হল হুজুর ডেকে দুআ করানো। অথবা টাকাপয়সা দিয়ে দুআ করানো। না, আপনি মুখে একবার বললেন, রব্বিগ ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা। দুআ কবুল হলেই তার আমালনামায় নেকি যোগ হবে। দ্বিতীয় হল দান করা। সাদাকায়ে জারিয়া- স্থায়ী বড় দান, অথবা ছোট দান। এই দুটো সুন্নাত। এই দুটো করলে তারা পাবেন এটা নিশ্চিত। আর আমরা যেটা করি, কালিমা খতম, কুরআন খতম- এটা কোথাও নেই। সাহাবিরা করেন নি, তাবেয়িরা করেন নি। আলেমরা একটা যুক্তি দিয়েছেন, দান করলে যেহেতু পাবে কুরআন পড়লেও পাবে। কিন্তু কুরআনটা কে পড়বে? তার আত্মীয়স্বজন মহাব্বতের সাথে পড়বে। এই যে পারা ভাগ করে করে কুরআন আপনারা পড়ান এতে টাকাই যায় শুধু, কাজ কিছু হয় না। সামাজিকতা ঠেকাতে গিয়ে একটু পড়া হয়। আমরাও ছোটবেলায় পড়েছি। কোনো আন্তরিকতা থাকে না, আবেগ থাকে না, পুরো পড়েও না। আর কালিমা যখন পড়তাম- আমাদের উস্তাদরা বলতেন, মুঠো মুঠো দে! একটা একটা করে পড়ার সময় আছে নাকি! এগুলোতে আমাদের পেট ভরে। কিছু টাকাপয়সা আমরা পাই। এইসব আনুষ্ঠানিকতা পুরোহিতদের উপকার করে। আপনাদের ক্ষতি করে। ইসলামে পুরোহিত তন্ত্র নেই। আপনি সাদকা করবেন, দান করবেন, এতীম খাওয়াবেন- আপনার উপকার হবে। তবে হ্যা, আলেমদের সম্মান করবেন সেটা ভিন্ন জিনিস। কিন্তু আপনার বাপের দুআর জন্য আমাকে কেন ডেকে নিয়ে যেতে হবে! এটা বানানো ইসলাম। একজন আলেমকে দাওয়াত করে খাওয়াবেন এটা ভিন্ন ইবাদত। খুবই ভালো কাজ। কিন্তু আপনার আব্বার জন্য আপনি দান করবেন, দুআ করবেন। দানের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক দান করবেন। মাদরাসায় দেবেন, এতীমখানায় দেবেন, গরিবদের দেবেন। আনুষ্ঠানিকতা করতে গেলেই দেখবেন সমাজের ফাসেক কাজেররা জায়গা দখল করে নেবে।