hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬৯

প্রশ্ন-৩৭১: জিহাদ ও কিতালের নির্দেশসম্বলিত আয়াতগুলোর প্রাসঙ্গিকতা আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে?

পবিত্র কুরআনে জিহাদ ও কিতালের নির্দেশসম্বলিত অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আয়াতগুলোর প্রাসঙ্গিকতা আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নাকি? মুসলিমদের উপর সারা বিশ্বে আগ্রাসন চালানো হচ্ছে। এই অবস্থায় কাফেরদের বিরুদ্ধে মুমিনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনে নামাযের অনেক আয়াত নাযিল করেছেন। কিন্তু নামাযের কিছু শর্ত আছে। সময় আছে। আল্লাহ যেহেতু কুরআনে নামাযের আয়াত নাজিল করেছেন, তাই ইচ্ছামতো পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ নামায পড়লাম, ওযু গোসল করলাম না, অথবা উলঙ্গ হয়ে পড়লাম, অথবা সূর্যাস্তের সময় পড়লাম- নামায হবে নাকি? হবে না। ঠিক তেমনি আল্লাহ জিহাদেরও আয়াত নাজিল করেছেন। তিনি কুরআনে এর বিধিবিধান দিয়েছেন। জিহাদ অবশ্যই রাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। আল্লাহ কুরআনে এটা বলেছেন। হাদীসেও বলেছেন রাসূলুল্লাহর (ﷺ) বলেছেন, রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে জিহাদ করতে হবে। তাই যদি না হয় তাহলে তো আমি আমার গ্রুপ নিয়ে আর আপনি আপনার গ্রুপ নিয়ে মারামারি করে মরে যাব। দ্বিতীয়ত, কার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে এটাও আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। জিহাদ মুমিনের জীবন থেকে হারায় না। জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। রাষ্ট্র, প্রশাসনের দায়িত্ব জিহাদকে উজ্জীবিত রাখা। কেউ না করলে সে গোনাহগার হবে। মুমিনের দায়িত্ব জিহাদের দাওয়াত দেয়া, রাষ্ট্রকে বলা। তবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে জিহাদ হয় না। খুনোখুনি হয়, মারামারি হয়। পৃথিবীতে ইসলামের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ছিল না কবে! আর থাকবে না কবে! কিন্তু কোনো কিছুতে ইসলাম শেষ হয়ে যায় নি। আর অস্ত্র তুলে নিলেই ইসলাম কায়েম হয় নি। আফগানিস্তানে অনেক বছর জিহাদ হয়েছে। কিন্তু সেখানে ইসলাম কিছুই আগায় নি। আবার জিহাদ ছাড়াই তুরস্কে ইসলাম অনেক এগিয়ে গেছে। জিহাদের পরিবেশ আসলে জিহাদ হবে। কাফেরদের মেরে ফেললেই সব মরে যাবে, এমন না। আবার তারা বেঁচে থাকলেই জিতে যাবে, এমন না। আমার উপর যা দায়িত্ব, তা আমি পালন করব। জিহাদের যদি সুযোগ থাকে জিহাদ করব। জিহাদের সুযোগ নেই আমি দাওয়াত দেব। আপনি যে অস্থিরতায় ভুগছেন, সব শেষ করে দেব- আপনি শেষ করলেই সব শেষ হবে না। এই অস্থিরতার জন্যই আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন:

عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم

তোমার দায়িত্ব তোমার। তুমি সুপথে ডাকার পরেও কেউ না আসলে তাদের এই পথভ্রষ্টতা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।