hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৯

প্রশ্ন-১০৬: তারাবীহর নামাযের প্রতি চার রাকআতের পর যে দুআটা পড়া হয়, সেটা নাকি ঠিক নয়?

আপনি অন্য এক জায়গায় বলেছিলেন, তারাবীহর নামাযের প্রতি চার রাকআতের পর যে দুআটা পড়া হয়, সেটা নাকি ঠিক নয়। কিন্তু সবাই তো এই দুআটা পড়ে। এখন আমি যদি না পড়ি তাহলে কি আমার গোনাহ হবে?

উত্তর: আমরা সব জায়গায়ই ফাকি দিচ্ছি। সাহাবিদের শেষ যুগে, তাবেয়িদের যুগে তারাবীহ পড় হতো ইশারা পর থেকে অর্থাৎ রাত আটটা ন'টা থেকে সাহরি পর্যন্ত। তাঁদের চার রাকআত সালাত আদায় করতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যেত। এ জন্য চার রাকআত পড়ে একটু শ্রিাম করতেন। এই বিশ্রামের সময় কোনো দুআ নেই। কারণ, বিশ্রাম তো রাসূলের (ﷺ) যুগে ছিলই না। কাজেই দুআ আসবে কী করে! সাহাবিরাও কোনো দুআ করতেন না এবং কোনো ফিকহের কিতাবেও দুআ লেখা নেই। আমরা যে দুআগুলো পড়ি, এগুলো অনেক পরের মানুষেরা বানিয়েছেন। মাসনুন কোনো দুআই না এগুলো। তাই এই সময় যদি বিশ্রাম করা হয়, আপনারা দুরুদ শরীফ পড়েন, তাসবীহ তাহলীল করেন, কুরআন তিলাওয়াত করেন, সূরা ইখলাস পড়েন। সহীহ হাদীস- মুসনাদে আহমাদের হাদীস- কেউ যদি দশ বার সূরা ইখলাস পড়ে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটা বাড়ি বানিয়ে রাখবেন। কাজেই ইমাম সাহেব যদি শ্রিাম করেনই, আপনি দশ বার সূরা ইখলাস পড়েন। এটা বরং সুন্নাহসম্মত একটা নেক আমল। যদিও তারাবীহর এই সময় এটা পড়তে হবে, এটা নির্ধারিত নয়। তবে একটা ভালো নেক আমল।