hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৬

প্রশ্ন-১৩৩: রাসূল (ﷺ) জুমআর খুতবা থামিয়ে বললেন, তুমি দুই রাকআত নামায পড়ে নাও। এই নামায আসলে কিসের নামায?

বুখারি শরীফের বাংলা একটা হাদীসে আমি দেখেছি, রাসূল (ﷺ) একদিন জুমআর নামাযে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক সাহাবি মসজিদে প্রবেশ করলেন। রাসূল (ﷺ) খুতবা থামিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি কি দুই রাকআত নামায পড়েছ? যদি না পড়ে থাকো তাহলে দুই রাকআত নামায পড়ে নাও। আবার খুতবা শোনা তো ওয়াজিব। তো এই নামায আসলে কিসের নামায? আমরা এটা পড়ব কি না?

উত্তর: আপনি যে সালাতের কথা বলেছেন, এটা হল দুখুলুল মাসজিদ বা তাহিয়্যাতুল মাসজিদের সালাত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

إذا دخل أحدكم المسجد، فلا يجلسن حتى يصلي ركعتيني

তোমরা কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে অন্তত দুই রাকআত সালাত না পড়ে বসবে না। এটা মসজিদের হক। আপনি যদি ঢুকে কোনো ফরয নামাযেও দাঁড়িয়ে যান তাহলেও মসজিদের হক আদায় হয়ে যাবে। কোনো সালাত না পড়ে বসলে মসজিদের হক নষ্ট করা হয়। যখন আরবিতে খুতবা চলে এই অবস্থায় সালাতের কী হবে- এই যে হাদীসটার কথা আপনি বলেছেন, এটা সহীহ হাদীস। এই হাদীস অনুযায়ী আরবি খুতবা বা যে কোনো সময় ঢুকলেই আমাদের দুই রাকআত সালাত পড়ে বসা উচিত। কিন্তু অন্য আরেকটা হাদীস আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে ঢুকেছেন, তিনি মানুষদের মাথার উপর দিয়ে ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে সামনে আসছেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি বসে পড়ো। তুমি দেরি করে এসেছ আবার মানুষকে কষ্ট দিচ্ছ। এখানে সালাত পড়ে বসতে বলেন নি। এমনি বসে যেতে বলেছেন। তো সব মিলিয়ে এক্ষেত্রে ফুকাহাদের মতভেদ আছে। আমরা যে কোনো হাদীসের উপর আমল করতে পারি। আল্লাহ তাওফীক দিন। (সহীহ ইবন হিন-৩১৭৯; নাসায়ি-৪/৯৪-৯৫; তিরমিযি-৩২০; ইবন মাযাহ-১৫৭৫ * সহীহ বুখারি-৪৪৪; মুসলিম-৭১৪)