hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪০৮

প্রশ্ন-৪১২: ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির দুটো পর্যায় রয়েছে। যেটা আল্লাহ বলেন নি সেটা দীনের অংশ বানিয়ে নেয়া। মনগড়া দীন বানানো। যেমন আমাদের সমাজে আছে- কেউ মরে গেলে থানা করা। অথচ খানার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্কই নেই। অমুক বাড়ি বানালো, মীলাদ দিল না, ওর সাথে মিশবি না। এ হল এক বাড়াবাড়ি বানোয়াট ধর্ম। আরেক বাড়াবাড়ি হল, ধর্ম পালনে অথবা ধর্মের দাওয়াতে বাড়াবাড়ি। অর্থাৎ আমি ধর্ম পালন করব, ছোটখাটো একটা গোনাও করব না। সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ব। এই যে জযবা, এটা ঠিক না। রাসূলুল্লাহর (ﷺ) আপত্তি করতেন। তিনি বলতেন, তোমরা মধ্যমপন্থী ইবাদত করে যাও। একবারে ছেড়ে দিও না আবার সব করে ফেলবে এমনও না। অনেক সময় বান্দার জযবা আসে। আমি একটাও গোনাহ করব না, বিশাল পাগড়ি পরব, সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ব, নফল রোযা একটাও বাদ দেব না, যত জিকির আছে সব করব- এটা আসলে মানবীয় গুণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা গেল এক বাড়াবাড়ি। আরেক রকম বাড়াবাড়ি আছে। বুখারি শরীফে এসেছে, সেটা হল মানুষের ভালো করার বাড়াবাড়ি। সেটা হল জিহাদ। খারেজি সম্প্রদায় তারা এইদুটো বাড়াবাড়ি একসাথে করত। তারা আলি রা. কে কাফের বলত। কারণ, আলি রা, কুরআনের আইন মানে নি, মানুষের আইন মেনেছে। তাই সে কাফের। তাঁর পক্ষে যত লোক আছে সব কাফের। এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো আর কতল করো। আর ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করো। এদের খুব আবেগ ছিল। রাতদিন ইবাদত করত। সারাদিন নফল রোযা রাখত, সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ত। এরা একদিন সাহাবি জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রা.কে বলল, আমাদের কিছু নসিহত করুন। জুনদুন রা. বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা দীনকে কঠিন বানিয়ে নিয়ো না। নিজের ব্যক্তি জীবনেও না, মানুষকে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রেও না। জোর করেই মানুষকে মুসলিম বানিয়ে ফেলবে, ব্যাপার এমন না। দাওয়াত দাও, ডাকো, বলো। জোরের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে জোর করতে বললা। না হলে রাষ্ট্রের কাছে দাওয়াত দাও। না শুনলে রাষ্ট্র গোনাহগার হবে। এই হল দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি। একটা হল বানোয়াট দীন, দীন পালনে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) এর নীতির বাইরে চলে যাওয়া। আরেকটা হল, দীনের পথে দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে মারামারি হানাহানি করা।