hadith book logo

জিজ্ঞাসা ও জবাব (১ম খণ্ড)

লেখকঃ ড. খোন্দকার আব্দুলাহ জাহাঙ্গীর (রাহিমাহুল্লাহ) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩৪

প্রশ্ন-২৩১: জীবিত বুযুর্গরা অন্যের কবরের অবস্থা কি বুঝতে পারে?

উত্তর: আমাদের সমাজে অনেক বুযুর্গ আছে, তারা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কবরের হাল বলে দেয়। এখানে একটা কবর আছে, বাবা। তোমরা ঘিরে রেখ। একটু দান সদকা করে দিও, এই কবরবাসীর কষ্ট হচ্ছে। একে বলে 'কাশফুল কুনূর। এমন হুজুর আছে আমাদের সমাজে। সহীহ বুখারির হাদীস, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুধভাই, উসমান ইবনে মাউন রা., খুব বুযুর্গ ছিলেন, জাহিলি যুগে কোনো দিন মূর্তি পূজা করেন নি। কোনো দিন মদ খান নি। অথচ মদ তখন হালাল ছিল। উহুদের যুদ্ধে অথবা উহুদ যুদ্ধের আগে উসমান রা. মারা গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এত ভালোবাসতেন, লাশের দেহে চুমু খেলেন। এত কাঁদছিলেন, তার দাড়ি ভিজে গিয়েছিল। নিজেই জানাযা পড়ান। জানাযার পরে নিজে লাশ নিয়ে কবরে নামেন। মৃত্যুর পরে একদিন, উসমান ইবনে মাযউন রা, যে আনসারের বাড়িতে থাকতেন, সেই বাড়ির এক মহিলা, সম্ভবত উম্মুল ফজল নাম, তিনি বলতে লাগলেন- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, উসমান ইবনে মাযউন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে সম্মানের সাথে রেখেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনে ফেললেন। তিনি এই মহিলা সাহাবিকে প্রশ্ন করলেন- তুমি কী করে জানলে যে, কবরের যাওয়ার পরে আল্লাহ তাআলা উসমানকে সম্মানের সাথে রেখেছেন? সহজ কথা! কাশফুল কুনূরের মাধ্যমে জেনেছেন। চোখ বুজে জেনে গেছেন। আমাদের বুযুর্গরা তো তাই করেন। কিন্তু সাহাবি কী বললেন? বললেন, ইয়া রসুলাল্লাহ, আমি তো আসলে জানি। কিন্তু উসমানকে যদি আল্লাহ সম্মান না করেন তাহলে আর কাকে করবেন! আমি সুধারণার ভিত্তিতে এটা বলেছি। তাহলে বোঝা গেল, সাহাবিদের কাশফ আমাদের হুজুরদের চেয়ে কম ছিল! হয় তাঁরা সঠিক আমরা ভুল, অথবা তাঁরা কম বুযুর্গ আমরা বেশি বুযুর্গ। আপনারা ভেবে দেখেন কোনটা হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বলছেন এবার শশানেন। সহীহ বুখারির হাদীস, আমি আল্লাহর রাসূল হয়ে বলছি, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি আশা করি আল্লাহ তাকে ভালো রেখেছেন। কিন্তু কেয়ামতে আল্লাহ আমাদের কী করবেন আমি বলতে পারব না। তাহলে আমাদের হুজুররা কবরের অবস্থা বলে দেন, সাহাবিরা বলতে পারেন না। অবশ্য সাইয়েদ আহমাদ বেরেলভি রাহ, তার ‘সিরাতে মুস্তাকীম' নামক বইয়ে লিখেছেন, কাশফুল কুদূর এটা কাফেরদেরও হতে পারে। এইসব যাদু-সাধনা ইসলামের কিছু না।