hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০২

জা‘ফর ইব্‌ন আবূ তালিবের মর্মস্পর্শী ভাষণ

বাদশাহ নামদার! আমরা ছিলাম অজ্ঞ ও মূর্তিপূজারী। মৃত জন্তু ভক্ষণকারী, অসামাজিক কার্যকলাপ ও প্রতিবেশীদেরকে নির্যাতনে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম। আমাদের সবল ব্যক্তিরা দুর্বলদের অধিকার গ্রাস করতো। এমন সময় আল্লাহ্ আমাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করলেন। তার উচ্চ বংশমর্যাদা, সততা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কে পূর্বেই আমরা অবগত ছিলাম। তিনি আমাদের এক আল্লাহ্‌তে বিশ্বাসীতে পরিণত করে মূর্তিপূজা থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, সত্য বলতে, আমানত রক্ষা করতে ও নেক আমল করতে হুকুম করেছেন এবং পাপাচার, মিথ্যা কথন এবং পিতৃহীনদের সম্পদ গ্রাস করতে তিনি আমাদেরকে বারণ করেছেন। সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততা ও প্রতিবেশীর প্রতি সৌহার্দমূলক আচরণের নির্দেশ দান করেছেন। তিনি আমাদের হত্যা ও রাহাজানি থেকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং আল্লাহর ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেই রাসূলের উপর ঈমান এনেছি এবং তার আনুগত্য অবলম্বন করি। এজন্যে আমাদের স্বজাতি আমাদের প্রতি রুষ্ট হয়ে গেছে। তারা আমাদেরকে নানারূপে নির্যাতন করে। অগত্যা আমরা দেশত্যাগ করে আপনার দেশে এসে আশ্রয় নেই। আমাদের এ প্রতীতি রয়েছে যে, আপনার দেশে আমাদের প্রতি কোনরূপ অবিচার করা হবে না।

এ ভাষণ শুনে নাজাশী বললেন : তোমাদের নবীর প্রতি আল্লাহর যে কালাম নাযিল হয়েছে তার কিছুটা শোনাও দেখি। হযরত জা‘ফর (রা) সূরা মারয়াম তিলাওয়াত শুরু করলেন। কুরআনুল কারীমের আয়াত শুনে নাজাশী এবং পারিষদবর্গের চোখে পানি এসে গেলো। হযরত জা‘ফর (রা) সূরা মারয়ামের প্রথম দিকের আয়াতগুলো পড়ে শোনাতেই নাজাশী বলে উঠলেন: হযরত মূসা (আ)-এর তাওরাতের আর এ কালামের ধরন তো একই। উভয়টি অভিন্ন মনে হচ্ছে।

কুরায়শ দূতেরা বলে উঠলেন : এরা কিন্তু হযরত ঈসা (আ)-এরও বিরোধী। একথাটির দ্বারা তারা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী আবিসিনীয় রাজাকে মুসলমানদের প্রতি ক্ষেপাতে চেয়েছিলো। হযরত জা‘ফর ইব্‌ন আবূ তালিব (রা) তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন : মিথ্যে কথা বরং

هو عبد الله ورسوله وكلمة ألقها الى مريم وروح منه .

তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং আল্লাহর বাণী যা তিনি মারয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তার আদেশ।

নাজাশী বলে উঠলেন : তোমাদের এ বিশ্বাস যথার্থ। ইনজীল কিতাবের মর্মও ঠিক তাই। তিনি কুরায়শ দূতদ্বয়কে ব্যর্থ মনোরথ ফিরিয়ে দিলেন এবং স্পষ্ট বলে দিলেন, আমি এদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারি না। সাথে সাথে কুরায়শদের দেয়া উপহার সামগ্রীও তিনি ফেরত দিয়ে দিলেন। ফলে তাদের অপমানের অন্ত রইলো না। এটা নবুওয়াতের ষষ্ঠ সালের ঘটনা। নাজাশীর দরবারে কুরায়শদের এ ব্যর্থতা মুসলমানদের প্রতি তাদের বিদ্বেষ আরো বাড়িয়ে তুললো।