hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৭

গরীবদের লালন-পালন

মান-মর্যাদা ও জনপ্রিয়তায় সম্ভবত তিনিই ছিলেন মক্কার শীর্ষস্থানীয় পুরুষ। কেউ তার শত্রু ছিল না। সকলেই তাঁকে ভক্তি ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো এবং ভালবাসতো। তাঁর বিচক্ষণতা, সুন্দর চালচলন, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারীর দেশজোড়া খ্যাতি ছিল। ব্যবসা তাঁর পেশা ছিলো। খাদীজা (রা)-এর সঙ্গে শাদী হবার পর বেশ সচ্ছলতার সাথেই তার জীবন অতিবাহিত হচ্ছিলো। একবার দেশে খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তার চাচা আবূ তালিবের পরিবারের লোকসংখ্যা ছিল বেশী। খান্দানের প্রবীণতম ব্যক্তি এবং বনী হাশিম গোত্রের সরদার রূপে তাঁর প্রভূত সম্মান ছিল। কিন্তু সাংসারিক সচ্ছলতার অভাবে খুব কষ্টেই তাঁর জীবিকা নির্বাহ হতো। চাচার এ অর্থকষ্ট লক্ষ্য করে একদিন তিনি তাঁর অপর চাচা আব্বাসকে লক্ষ্য করে বললেন, আজকাল দেশে দারুণ দুর্ভিক্ষ চলছে। আবূ তালিবের সংসার বড়। তার পুত্রকে আপনি আপনার সংসারে নিয়ে যান আর একজনকে আমি আমার সংসারে নিয়ে আসি। এভাবে তার সাংসারিক বোঝা বেশ হালকা হয়ে যাবে। তার এ পরামর্শ আব্বাসের খুবই মনঃপূত হলো। তারা দু’জনে তখন আবূ তালিবের খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁদের প্রস্তাব তাঁর কাছে পাড়লেন। জবাবে আবূ তালিব বললেন : আকীলকে তো আমার কাছে থাকতে দাও আর অন্যদেরকে ইচ্ছে হলে তোমরা নিয়ে যেতে পার। সে মতো হযরত জা‘ফরকে হযরত আব্বাস নিয়ে গেলেন আর হযরত আলীকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর নিজ ঘরে নিয়ে আসলেন। এটা ঐ বছরেরই ঘটনা, যে বছর কা‘বা ঘর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এটা কা‘বা নির্মাণের সময়কার উপরোক্ত ঘটনার পূর্ববর্তী ঘটনা। তখন হযরত নবী (সাঃ)-এর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর আর হযরত আলী (রা)-এর বয়স ছিলো পাঁচ বছর।