hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫৪

বনূ নাযীরের দেশান্তর

মুনাফিকদের এই পৃষ্ঠপোষকতা ও উস্কানি প্রদানে বনূ নাযীরের শক্তিও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষে পনেরো দিনের অবরোধ ও মুকাবিলায় ফল এই দাঁড়ালো, আবদুল্লাহ ইব্‌ন উবায়্যের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালো যে, আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দান করলে আমরা দেশান্তরিত হতে প্রস্তুত। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম হুকুম দিলেন—অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া তোমরা তোমাদের যে মাল আসবাব উটের উপর করে নিয়ে যেতে পার তা নিয়ে মদীনা থেকে চলে যাও। সে মতে তারা অস্ত্রশস্ত্র ছাড়া যে পরিমাণ মাল উটের উপর বহন করে নিতে পারলো নিয়ে গেলো। যাওয়ার সময় তারা তাদের ঘরদোর নিজেরাই ভেঙে ফেললো এবং ঘরের মটকা প্রভৃতি তৈজসপত্র চূর্ণবিচূর্ণ করলো। মদীনা থেকে বের হয়ে তারা কতক খায়বার চলে গেলো এবং কতক সিরিয়ায় গিয়ে বসতি স্থাপন করলো। হযরত নবী করীম (সাঃ) তাদের অবশিষ্ট মালামাল, সহায়-সম্পত্তি ও অস্ত্রশস্ত্র মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন। আনসারদের মধ্য থেকে শুধু হযরত আবূ দুজানা (রা) ও সাহল ইব্‌ন হুনায়ফ এই মালে গনীমতের অংশ পেলেন। কেননা এই দু’জনও খুব গরীব ও অভাবগ্রস্ত ছিলেন। ইয়াহূদীদের মধ্য থেকে ইয়ামীন ইব্‌ন উমায়র (রা) ও সাঈদ ইব্‌ন ওয়াহব (রা) ইসলাম গ্রহণ করলেন। এজন্য তাদের মাল-আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্রের উপর কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হলো না। এ যুদ্ধ গাযওয়া বনূ নাযীর নামে প্রসিদ্ধ। এটি চতুর্থ হিজরীর রবীউল আউয়াল মাস অর্থাৎ উহুদ যুদ্ধের পূর্ণ ছয় মাস পর সংঘটিত হয়। সূরা হাশর এই যুদ্ধের সময়ই অবতীর্ণ হয়। এই ঘটনার পর হযরত নবী করীম (সাঃ) মাসাধিককাল মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করেন।