hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২৫

হযরত উমর (রা)-এর চমৎকার ব্যবহার

হরমুযানের কথা শুনে হযরত ফারুকে আযম (রা) বললেন, তুমি মিথ্যা কথা বলছ, আমি তোমাকে নিরাপত্তা দান করিনি। কিন্তু হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা) সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! হরমুযান সত্য কথাই বলেছে। আপনি তো এই মাত্র বলেছেন তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবস্থা বর্ণনা না কর এবং পানি পান না কর ততক্ষণ তোমার ভয়ের কোন কারণ নেই। হযরত ফারূকে আযম (রা) একথা শুনে একেবারে স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি হরমুযানকে সম্বোধন করে বলেন, তুমি আমাকে ধোঁকা দিয়েছ, কিন্তু আমি তোমাকে ধোঁকা দেব না। এটাই সমীচীন যে, তুমি মুসলমান হয়ে যাও। হরমুযান তখন তখনই কালিমায়ে তাইয়িবা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন। এতে হযরত ফারূকে আযম (রা) অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। তিনি হরমুযানকে মদীনায়ে তাইয়িবাতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন এবং দু’হাজার দীনার তার বার্ষিক ভাতা মঞ্জুর করেন। তখন থেকে হযরত ফারূকে আযম (রা) পারস্য অভিযানের সময় প্রায়ই হরমুযানের পরামর্শ নিতেন। তারপর হযরত ফারূকে আযম (রা) হযরত আনাস ইব্‌ন মালিক (রা), হযরত আহনাফ ইব্‌ন কায়স (রা) প্রমুখ প্রতিনিধি দলের সদস্যগণকে সম্বোধন করে বললেন, সম্ভবত আপনারা যিম্মীদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না, তাই ওরা বারবার বিদ্রোহী হয়ে উঠে। একথা শুনে হযরত আহনাফ ইব্‌ন কায়স (রা) বলেন, “হে আমীরুল মু’মিনীন! আমরা সর্বদা আমাদের প্রতিশ্রুতি পালন করি এবং যিম্মীদের সাথে অত্যন্ত সদয় ব্যবহার করি। তাদের বার বার বিদ্রোহী হয়ে উঠার মূল কারণ, আপনি আমাদেরকে পারস্য ভূখণ্ডের দিকে আরো অগ্রসর হতে নিষেধ করেছেন। পারস্যের বাদশাহ্ ইয়ায্‌দেজিরদ পারস্য শহরসমূহে বিদ্যমান। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পারস্য ভূখণ্ডে জীবিত ও নিরাপদ থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত পারস্যবাসীরা আমাদের মুকাবিলা থেকে কখনো নিরস্ত হবে না। হযরত ফারূকে আযম (রা) হযরত আহনাফ (রা)-এর কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেন এবং এরপর থেকে ইসলামী বাহিনীকে পারস্য ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাবার অনুমতি প্রদান করেন।