১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২১
অন্যান্য প্রদেশও দখলের চেষ্টা
মিসর দখলের পর আমীরে মুআবিয়ার সাহস অনেক বেড়ে যায়। এবার তিনি বসরা দখলের চেষ্টা করেন। বসরার পরিস্থিতিও ছিল মিসরেরই অনুরূপ। জামাল যুদ্ধের কারণে অনেক বসরাবাসী আলী (রা)-এর প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। তারা উসমান হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াও জরুরী মনে করত। মুআবিয়া (রা) আবদুল্লাহ্ ইব্ন হাদরামীকে বসরার দিকে প্রেরণ করেন। তিনি তাকে বুঝিয়ে বলেন, যেসব লোক আলীর প্রতি অসন্তুষ্ট এবং উসমান হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াকে জরুরী মনে করে তুমি তাদেরকে নিজের দিকে আকৃষ্ট কর, তাদের মন জয়ের ব্যাপারে সর্বদা সচেষ্ট থাক এবং কূট-কৌশলের মাধ্যমে বসরা দখল করে নাও। ইবনুল হাদরামী যখন বসরায় পৌঁছে তথাকার শাসক আবদুল্লাহ্ ইব্ন আব্বাস সেখানে ছিলেন না। তিনি কোন কারণে হযরত আলীর কাছে গিয়েছিলেন। এটা ছিল ইবনুল হাদরামীর জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। বসরার একটি শক্তিশালী দল তার পক্ষে চলে আসে। কূফায় আলী (রা)-এর কাছে যখন এই সংবাদ গিয়ে পৌঁছে তখন তিনি আয়ান ইব্ন দাবীয়াকে সেখানে পাঠান এবং নির্দেশ দেন, যেভাবে পার, ইবনুল হাদরামীর চারপাশে যারা সমবেত হয়েছে, তাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা কর। আয়ান চেষ্টায় সাফল্য লাভ করেন। ফলে ইবনুল হাদরামী হিজরী ৩৮ সনের শেষ দিকে বসরায় নিহত হয়।
হিজরী ৩৯ সনে ফারিসবাসীরা যখন দেখতে পেল যে, বসরাবাসীদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে, সেখানকার কিছু লোক আলীর প্রতি সহানুভূতিশীল, আবার কিছু লোক মুআবিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল তখন তারা বিদ্রোহ করে তাদের গভর্নর সুহায়ল ইব্ন হানীফকে সেখান থেকে বের করে দেয়। আলী (রা) বসরার গভর্নর ইব্ন আব্বাসকে লিখলেন, যিয়াদকে ফারিসের প্রশাসক নিয়োগ করে অবিলম্বে সেখানে পাঠিয়ে দাও। যিয়াদ ফারিস পৌঁছে তরবারির জোরে সেখানকার লোকদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আসেন।
মুআবিয়া (রা) যখন জানতে পারেন যে, লোকেরা আলী (রা)-এর কথায় খুব একটা কান দিচ্ছে না, তার সাথে যুদ্ধে যেতে রাযী হচ্ছে না, এমন কি এখানে সেখানে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করছে তখন তিনি এই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তিনি বদান্যতা, ক্ষমা, উপহার-উপঢৌকন ইত্যাদির মাধ্যমে লোকদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করেন। তিনি সকলের জন্য তাঁর ঔদার্য ও বদান্যতার দরজা এমনভাবে খুলে দেন যে মদীনা, তায়িফ, ইয়ামন প্রভৃতি স্থান থেকে লোকেরা দলে দলে দামিশকে এসে তার দরবারে ভিড় জমাতে থাকে। মুআবিয়া (রা) নু‘মান ইব্ন বশীরকে আইনুত তামরের দিকে প্রেরণ করেন। সেখানকার গভর্নর মালিক ইব্ন কা‘বের কাছে আলী (রা)-এর পক্ষ থেকে কোন সাহায্য না পৌঁছায় নু‘মান সহজেই ‘আইনুত তামর’ দখল করে নেন। মুআবিয়া (রা) সুফিয়ান ইব্ন আওফকে একটি শক্তিশালী বাহিনী দিয়ে মাদায়েনের দিকে প্রেরণ করেন। সুফিয়ান আনবার, মাদায়েন প্রভৃতি অঞ্চলের ধন-সম্পদ যতটুকু সম্ভব লুটে নিয়ে দামিশক অভিমুখে রওয়ানা হয়। আলী (রা) এই সংবাদ পেয়ে তার পশ্চাদ্ধাবন করেন, কিন্তু তার নাগাল পাননি।
হিজরী ৩৯ সনে ফারিসবাসীরা যখন দেখতে পেল যে, বসরাবাসীদের মধ্যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে, সেখানকার কিছু লোক আলীর প্রতি সহানুভূতিশীল, আবার কিছু লোক মুআবিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল তখন তারা বিদ্রোহ করে তাদের গভর্নর সুহায়ল ইব্ন হানীফকে সেখান থেকে বের করে দেয়। আলী (রা) বসরার গভর্নর ইব্ন আব্বাসকে লিখলেন, যিয়াদকে ফারিসের প্রশাসক নিয়োগ করে অবিলম্বে সেখানে পাঠিয়ে দাও। যিয়াদ ফারিস পৌঁছে তরবারির জোরে সেখানকার লোকদেরকে সঠিক পথে নিয়ে আসেন।
মুআবিয়া (রা) যখন জানতে পারেন যে, লোকেরা আলী (রা)-এর কথায় খুব একটা কান দিচ্ছে না, তার সাথে যুদ্ধে যেতে রাযী হচ্ছে না, এমন কি এখানে সেখানে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র করছে তখন তিনি এই পরিস্থিতির সদ্ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তিনি বদান্যতা, ক্ষমা, উপহার-উপঢৌকন ইত্যাদির মাধ্যমে লোকদের নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করেন। তিনি সকলের জন্য তাঁর ঔদার্য ও বদান্যতার দরজা এমনভাবে খুলে দেন যে মদীনা, তায়িফ, ইয়ামন প্রভৃতি স্থান থেকে লোকেরা দলে দলে দামিশকে এসে তার দরবারে ভিড় জমাতে থাকে। মুআবিয়া (রা) নু‘মান ইব্ন বশীরকে আইনুত তামরের দিকে প্রেরণ করেন। সেখানকার গভর্নর মালিক ইব্ন কা‘বের কাছে আলী (রা)-এর পক্ষ থেকে কোন সাহায্য না পৌঁছায় নু‘মান সহজেই ‘আইনুত তামর’ দখল করে নেন। মুআবিয়া (রা) সুফিয়ান ইব্ন আওফকে একটি শক্তিশালী বাহিনী দিয়ে মাদায়েনের দিকে প্রেরণ করেন। সুফিয়ান আনবার, মাদায়েন প্রভৃতি অঞ্চলের ধন-সম্পদ যতটুকু সম্ভব লুটে নিয়ে দামিশক অভিমুখে রওয়ানা হয়। আলী (রা) এই সংবাদ পেয়ে তার পশ্চাদ্ধাবন করেন, কিন্তু তার নাগাল পাননি।