hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪২

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর ভাষণ

বায়‘আতে সাকীফা থেকে ফিরে এসে তার পরদিন হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর কাফন-দাফন শেষ করে মসজিদে নববীতে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) মিম্বরের উপর উপবেশন করে সাধারণ লোকদের বায়‘আত গ্রহণ করেন। তারপর দণ্ডায়মান হয়ে ভাষণ দেন এবং হামদ ও না’ত-এর পর জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেন :

আমি তোমাদের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। অথচ আমি তোমাদের চেয়ে উত্তম নই। সুতরাং আমি যদি সৎকাজ করি, তবে তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে আমাকে সাহায্য করা। আর যদি আমি কোন ভুল পথ অবলম্বন করি, তবে তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকে সোজাপথে প্রতিষ্ঠিত করা। সত্যবাদিতা ও সত্যকথা বলা একটি আমানত এবং মিথ্যা কথা হচ্ছে একটি খিয়ানত। তোমাদের মধ্যে যে দুর্বল, সে আমার নিকট শক্তিশালী—যে পর্যন্ত আমি তার প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিই। আর তোমাদের মধ্যে যে শক্তিশালী, সে আমার নিকট দুর্বল—যে পর্যন্ত আমি তার নিকট থেকে প্রাপ্য বুঝে না নিই। তোমরা জিহাদ পরিত্যাগ করবে না। যে জাতি জিহাদ পরিত্যাগ করে, সে জাতি অপমানিত হয়। আমি যতদিন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবো, ততদিন তোমরা আমার আনুগত্য করবে। আর আমি যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করি, তবে তোমরা আমাকে পরিত্যাগ করবে। কেননা, তখন তোমাদের উপর আমার আনুগত্য করা ফরয নয়।”

ঐ দিন ৩৩ হাজার সাহাবী হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণ করেন।

বায়‘আতে সাকীফার পর মদীনা মুনাওয়ারা এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সেই মতবাদের লেশমাত্রও কোথাও ছিল না, বায়‘আতের কয়েক মিনিট পূর্বেও মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যা বিদ্যমান ছিল। সবাই পূর্বের মতই অভিন্ন হৃদয় ও পরস্পর ভাই ভাই ছিল। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর শিক্ষালয় থেকে সরাসরি শিক্ষা গ্রহণকারী সাহাবায়ে কিরাম (রা) যে পূর্ণভাবে দুনিয়ার উপর দীনকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন, এটাও তার এক সর্বাপেক্ষা বড় প্রমাণ। দুনিয়ার কোন দল বা জামাআতই তাঁদের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারে না। যখন একথা চিন্তা করা হয় যে, ৩৩ হাজার সাহাবা একদিনে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর হাতে বায়‘আত গ্রহণ করেছেন এবং সারা আরবদেশ ও সমস্ত মুসলমান তাঁকে হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর খলীফা মেনে নিয়েছেন, তখন খিলাফতে সিদ্দীকী থেকে বড় অন্য কোন ইজমায়ে উম্মাত পরিদৃষ্ট হয় না।